বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:১৮, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

১৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশ, ঢাকায় সক্রিয় সাড়ে চারশোর ভাড়াটে খুনি

১৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশ, ঢাকায় সক্রিয় সাড়ে চারশোর ভাড়াটে খুনি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকা বর্তমানে সাড়ে চারশো ভাড়াটে খুনির উপস্থিতি নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত। মূলত বিদেশে অবস্থানরত ১৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসী বিভিন্ন হত্যার ‘সুপারি’ দিয়ে এই শুটারদের ব্যবহার করছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আটটি অপরাধ বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভাড়াটে খুনি রয়েছে মতিঝিল বিভাগে, যার সংখ্যা শতাধিক। এরপর আসে ওয়ারী বিভাগে ৭৩ জন। তেজগাঁও ও মিরপুর বিভাগে রয়েছে যথাক্রমে ৬১ ও ৬০ জন। রমনা ও লালভাগ বিভাগে শুটারের সংখ্যা যথাক্রমে ৩৬ ও ২৪ জন, আর গুলশান ও উত্তরা বিভাগে রয়েছে ১৬ ও ১৩ জন।

থানার ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি শুটার মতিঝিল থানায় (১০৬ জন)। এরপর পল্লবী থানাতে ৪২ জন এবং মোহাম্মদপুর থানাতে ৩৯ জন। এছাড়া কদমতলী, শ্যামপুর ও নিউমার্কেট থানায় যথাক্রমে ৩৪, ২১ ও ২০ জন ভাড়াটে খুনি সক্রিয়।

ভাড়াটে খুনিদের অপরাধের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে ভাষানটেক এলাকার রুপচান নামে এক সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে (৪৩টি মামলা)। একই এলাকার বাবুলের নামে রয়েছে ৩৪টি মামলা। শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত ও কিলার আব্বাসের নামে রয়েছে ৩০টি করে মামলা। তালিকাভুক্ত অর্ধশতাধিক অপরাধীর বিরুদ্ধে ১০টির বেশি মামলা রয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই ভাড়াটে খুনিদের বেশিরভাগের সঙ্গে রাজধানীর ১৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর যোগসাজশ রয়েছে, যারা বিদেশ থেকে বিভিন্ন অপরাধের নির্দেশ দিচ্ছেন। ডিএমপি জানায়, তালিকাভুক্তদের অনেকেই আত্মগোপনে থাকায় গ্রেফতার প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে।

ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেছেন, “প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত ও অভ্যাসগত অপরাধীরা যাতে এলাকায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে। পরিকল্পিত অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।”

অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, নির্বাচনের আগে ভাড়াটে খুনিদের তৎপরতা বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করতে পারে। 

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ঘটলে জনগণ, ভোটার, কর্মী ও প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভয় সৃষ্টি হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পথে ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। এসব দ্রুত মোকাবিলা করতে দায়িত্বশীল ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে দেশি ও বিদেশি শক্তি সক্রিয় হতে পারে। হাতে থাকা সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও ব্রিফিং দেওয়া জরুরি।”

ডিএমপি ইতিমধ্যেই ভাড়াটে খুনিদের তৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে।

সূত্র : সময় টিভি

আরও পরুন: