রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৬, ১৫ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি তেল বিক্রিতে তুলে নেওয়া হলো সব বিধিনিষেধ, বাড়ছে না দাম

জ্বালানি তেল বিক্রিতে তুলে নেওয়া হলো সব বিধিনিষেধ, বাড়ছে না দাম
ছবি: সংগৃহীত

দেশে জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত রেশনিংসহ সব ধরনের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, রোববার (১৫ মার্চ) থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল বিক্রিতে আর কোনো সীমা থাকবে না।

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনটি প্রধান কারণ বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমত, দেশে নতুন করে কয়েকটি তেলের জাহাজ এসে পৌঁছেছে। দ্বিতীয়ত, সামনে ঈদকে কেন্দ্র করে যাতায়াত ও জ্বালানির চাহিদা বাড়বে। তৃতীয়ত, চলমান বোরো মৌসুমে কৃষিকাজের জন্যও পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ অস্বাভাবিক নয়। তবে সরকার আপাতত জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত অর্থনীতি এই চাপ সামলাতে পারবে, ততক্ষণ দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।”

এর আগে শনিবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, ঈদযাত্রার বাড়তি চাপ বিবেচনায় দূরপাল্লার বাসসহ গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি নেওয়ার সীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রোববার থেকে ঈদযাত্রা শুরু হওয়ায় আগেই পরিবহন খাতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে শনিবার রাত থেকেই দূরপাল্লার বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো সীমাবদ্ধতার মুখে পড়বে না।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশেও পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ মার্চ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ফিলিং স্টেশন থেকে যানবাহনে তেল সরবরাহে সীমা নির্ধারণ করে দেয়।

সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারত, আর ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সীমা ছিল ১০ লিটার। এসইউভি ও মাইক্রোবাসের জন্য বরাদ্দ ছিল দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা স্থানীয় বাস পেত ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দিনে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত তেল নিতে পারত।

পরে গত ১০ মার্চ ‘রাইড শেয়ার’ মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এই সীমা কিছুটা শিথিল করা হয়। শুরুতে দিনে ২ লিটার তেলের অনুমতি থাকলেও তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ লিটার করা হয়। এখন নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এসব সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হলো।