শুক্রবার ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:২৩, ৩ জুলাই ২০২৬

মাছ-মুরগির দামে নাভিশ্বাস, চাপে ক্রেতারা

মাছ-মুরগির দামে নাভিশ্বাস, চাপে ক্রেতারা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কাঁচাবাজারে স্বস্তির দেখা মিলছে না। সপ্তাহ ঘুরতেই আবারও বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম, আর বেশিরভাগ মাছের বাজারও রয়েছে চড়া অবস্থায়। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে গরুর মাংস ও ডিমের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকায় কিছুটা স্বস্তি রয়েছে এসব পণ্যের বাজারে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বর্তমানে আকারভেদে রুই মাছ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ২৩০ থেকে ৫০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং টাকি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

চিংড়ির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। জাত ও আকারভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। বড় আকারের কিছু চিংড়ির দাম বেড়ে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

মুরগির বাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ব্রয়লার। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। অন্যদিকে সোনালি মুরগির দাম রয়েছে প্রতি কেজি ৩৪০ টাকা।

ডিমের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি ডজন সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায় এবং বাদামি ডিমের দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। একইভাবে গরুর মাংসের বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন নেই; প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।

ধানমন্ডির বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় সব ধরনের মাছের দামই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। চাষের মাছ তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও সামুদ্রিক মাছ কেনা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়েছে।

ডিম বিক্রেতা মাসুম জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। আগে প্রতি ডজন ডিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে সাদা ডিম ১০০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রায়েরবাজারের মাছ বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, মাছের বাজার মূলত সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে চিংড়ির সরবরাহ কম থাকায় এর দাম বেড়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমে নদীর মাছের সরবরাহ বাড়লে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

অন্যদিকে মুরগি বিক্রেতা মো. সোহেল জানান, বাজারে ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও আবার কমে আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়