বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

মাহফুজুল ইসলাম, যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:৪০, ২৮ জুলাই ২০২৬

স্বপ্ন, শিল্প আর অনুভূতির গল্পে যবিপ্রবির পায়েলের ‘শৌখিন কলম’

স্বপ্ন, শিল্প আর অনুভূতির গল্পে যবিপ্রবির পায়েলের ‘শৌখিন কলম’
ছবি: সংগৃহীত

"যান্ত্রিকতা নিখুঁত হতে পারে, তবে ত্রুটিহীন নয়। তবু কি পারবে আমার অনুভূতি ব্যক্ত করতে?" ডিজিটাল এই যুগে প্রশ্নটি যেন নতুন করে ভাবতে শেখায়। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ভিড়ে যখন হাতে লেখা অনুভূতির জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে, তখন সেই আবেগকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (এফএমবি) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী তিলোকতমা মেহেরিন পায়েল। তাঁর সৃজনশীল উদ্যোগের নাম ‘শৌখিন কলম’।

সাভারের শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই তরুণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত একাডেমিক জীবনের পাশাপাশি সমান নিষ্ঠায় লালন করছেন নিজের সৃজনশীলতাকে। ক্লাস, ল্যাবরেটরি, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার চাপ সামলেও তিনি সময় বের করে নিজের ভালো লাগা থেকেই শুরু করেন ‘শৌখিন কলম’। পড়াশোনা ও সৃজনশীলতার ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে চলার এই প্রচেষ্টাই তাঁকে এনে দিয়েছে ভিন্ন এক পরিচয়।

বকুল ফুলের মালা গাঁথার মতো যত্ন, মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে পায়েল সাজিয়ে তোলেন প্রতিটি কলম। তাঁর বিশ্বাস, কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ফোনে টাইপ করা বার্তা যতই নিখুঁত হোক না কেন, হাতে লেখা কয়েকটি শব্দের উষ্ণতা ও আন্তরিকতার কোনো বিকল্প নেই। তাই তাঁর তৈরি কাগজের ‘শৌখিন কলম’ শুধু একটি লেখার উপকরণ নয়, বরং এটি অনুভূতি প্রকাশের এক নান্দনিক মাধ্যম। বিভিন্ন রঙ, আকর্ষণীয় নকশা ও সূক্ষ্ম কারুকাজের সমন্বয়ে তিনি সাধারণ একটি কলমকে রূপ দেন ব্যতিক্রমী শিল্পকর্মে।

তাঁর সৃজনশীলতা কেবল কলম তৈরিতেই সীমাবদ্ধ নয়। ক্যালিগ্রাফি ও ক্যানভাস আর্টেও রয়েছে তাঁর সমান দক্ষতা। শিল্পের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও ধৈর্যের ছাপ ফুটে ওঠে তাঁর প্রতিটি কাজে। বিশেষ করে ‘আলহামদুলিল্লাহ’সহ বিভিন্ন ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে তিনি শিল্প ও বিশ্বাসের এক নান্দনিক মেলবন্ধন তৈরি করেন। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নকশা ও বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করেন তিনি, যাতে প্রতিটি কারুকাজ অন্যটির থেকে আলাদা হয়ে ওঠে।

নিজের সৃজনশীল কাজকে আরও সমৃদ্ধ করতে তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বাজার থেকে উপকরণ সংগ্রহ করেন। এরপর নতুন নতুন নকশা ও দৃষ্টিনন্দন ‘শৌখিন কলম’ তৈরিতে মনোযোগ দেন। তাঁর হাতে তৈরি কলমগুলো ইতোমধ্যেই যবিপ্রবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষীদের দৃষ্টি কেড়েছে। ব্যতিক্রমী নকশা ও নান্দনিকতার কারণে এগুলো ক্যাম্পাসে বেশ সাড়াও ফেলেছে। অনেকেই তাঁর কাছ থেকে কলম সংগ্রহ করে নিজেরা ব্যবহার করছেন, আবার অনেকে প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার জন্যও ‘শৌখিন কলম’ বেছে নিচ্ছেন। কেউ বা ক্যালিগ্রাফি দিয়ে রুম বা টেবিলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছেন, মানুষের এই ভালোবাসা, প্রশংসা ও উৎসাহই তাঁকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু সৃষ্টি করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

পড়াশোনা ও সৃজনশীলতা দুই ভিন্ন জগতকে এক সুতোয় গেঁথে পায়েল দেখিয়ে দিচ্ছেন, স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন শুধু অধ্যবসায়, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা। যান্ত্রিকতার এই সময়ে তাঁর ‘শৌখিন কলম’ যেন মানুষকে আবারও হাতে লেখা অনুভূতির কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। একটি কলম কখনো শুধু শব্দ লেখে না; কখনো কখনো লিখে ফেলে সম্পর্ক, স্মৃতি আর ভালোবাসার গল্পও।

নিজের এই সৃজনশীল উদ্যোগ সম্পর্কে পায়েল বলেন, “'শৌখিন কলম' মূলত ব্যবসার উদ্দেশ্যে শুরু করিনি। নিজের ভালো লাগা, সৃজনশীলতা আর নতুন কিছু করার ইচ্ছা থেকেই এই পথচলা। সব সময় চেষ্টা করি ভিন্ন ভিন্ন নকশা ও নতুনত্ব নিয়ে কাজ করতে। আমার তৈরি একটি কলম যদি কেউ নিজের ব্যবহারের জন্য পছন্দ করেন কিংবা প্রিয় মানুষকে ভালোবাসার উপহার হিসেবে দেন, সেটিই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ ও প্রাপ্তি। মানুষের ভালোবাসা ও উৎসাহই আমাকে প্রতিনিয়ত আরও নতুন কিছু সৃষ্টি করার অনুপ্রেরণা দেয়। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও আরো ইউনিক কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
 

জনপ্রিয়