লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের পেটালেন রাকসু ও শিবির নেতারা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে এক শিক্ষার্থীকে বাঁশ, রড ও লাথি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রাকসু ও শিবিরের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। এর আগে একই ঘটনায় প্রক্টর দপ্তরেও এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ করেন রাকসু নেতারা। নারী শিক্ষার্থীর করা প্রেমের প্রস্তাব ও হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঘটনা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার সূত্রপাত সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর অভিযোগ থেকে। ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, একই বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় তাকে হুমকি দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাড়াও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আনাস, একই বিভাগের হাসিব এবং সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
পরে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও এজিএস এস এম সালমান সাব্বির অভিযোগ করেন, বৈঠকে উপস্থিত আনাস নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা আনাসের মুঠোফোন পরীক্ষা করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হীল গালিবসহ কয়েকজনের সঙ্গে ছবি ও বিভিন্ন যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার দাবি করেন।
রাকসু নেতাদের অভিযোগ, এরপর প্রক্টর দপ্তরে আনাসকে মারধর করা হয়। তবে এ বিষয়ে আনাস বা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার প্রথম পর্বের পর প্রক্টর দপ্তর থেকে আনাসসহ অন্যরা বের হয়ে যান। পরে বিকেল তিনটার দিকে আনাস, হাসিব ও মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে যান। সেখানে রাকসু নেতাদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়।
এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আনাসসহ কয়েকজন রাকসু ভবন থেকে পরিবহন চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান কয়েকজনকে পাঠকক্ষের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর রাকসু ও শিবিরের কয়েকজন নেতা পাঠকক্ষে প্রবেশ করে সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান।
হামলায় বাঁশ, লাঠি, রড ও লাথি ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীকে পাঠকক্ষের ভেতরে রেখে হামলাকারীদের বাইরে নিয়ে আসেন প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ সদস্য ও পাঠাগারে থাকা শিক্ষার্থীরা।
পরে গুরুতর আহত মাহমুদুল হাসানকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিনসহ কয়েকজন শিক্ষক তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে তাকে আবারও হামলা করা হয়। পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনায় রাকসু নেতাদের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাদের কয়েকজন সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একাংশ অভিযোগ করছে, রাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটুকু, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।



























