বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে উত্তপ্ত পঞ্চগড়, আহত ১৫
সকালের মতবিনিময় সভায় হট্টগোলের জের রাতে সংঘর্ষে, ২ ঘন্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ।
পঞ্চগড় জেলা শহরে মিছিলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি মিছিল বের হলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে শহরের এমআর কলেজ মোড় এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে। রাত ১২টার পর দুই পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত ১৫ জনের মধ্যে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী রয়েছেন। তাদের মধ্যে রোকনুজ্জামান জাপান, আব্দুল বাতেন, শামীম, জীবন, সাফাত কবির, সাক্ষর, পাক্কু, ময়নুল, তপু, মিলন, সৌমিক, ফরহাদ, করিম আখতার, জিসান ও নুরনবী চৌধুরী রয়েছেন।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, সংঘর্ষে আহত ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে রেফার করা হয়েছে। আহতদের কয়েকজনের মাথায় আঘাত রয়েছে।
সকালে হট্টগোল, রাতে সংঘর্ষ
দলীয় সূত্র জানায়, একই দিন সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়। পরে ওই ঘটনার জের ধরেই রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন।
তবে সংঘর্ষের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



























