রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:১০, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুখস্থ নয়, কৌশলে রসায়ন শেখাবে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীর ‘দ্য পার্ক মডে

মুখস্থ নয়, কৌশলে রসায়ন শেখাবে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীর ‘দ্য পার্ক মডে
ছবিঃ প্রতিনিধি

রসায়নের জটিলতা ও মুখস্থনির্ভরতা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে বিষয়টিকে সহজ ও আনন্দদায়কভাবে শেখানোর লক্ষ্যেই দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রচেষ্টায় অভিনব একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং একই বিভাগে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এমএসসি সম্পন্ন করা রাকিব আহমাদ। তাঁর সেই ভাবনারই গ্রন্থরূপ ‘দ্য পার্ক মডেল’।

দীর্ঘদিনের চিন্তা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংশোধন ও পরিমার্জনের পর ২০২৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে বইটি। ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন বই বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম ‘রকমারি’-তেও জায়গা করে নিয়েছে ‘দ্য পার্ক মডেল’। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পাঠকদের কাছে বইটি পৌঁছে দিতে এর ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

‘দ্য পার্ক মডেল’-এর মূল লক্ষ্য রসায়নের এমন কিছু বিষয়কে সহজ করে তোলা, যেগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে সাধারণত কঠিন ও মুখস্থনির্ভর বলে মনে হয়। বিশেষ করে পর্যায় সারণির মৌলগুলোর নাম, রাসায়নিক সংকেত ও পারমাণবিক সংখ্যা সহজে মনে রাখার জন্য বইটিতে ব্যবহার করা হয়েছে অভিনব কিছু কৌশল। ছন্দ, সূত্র ও সুনির্দিষ্ট স্মরণ-পদ্ধতির পাশাপাশি পারমাণবিক সংখ্যা দ্রুত নির্ণয়ের কৌশলও তুলে ধরা হয়েছে এতে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মুখস্থ করার পরিবর্তে যুক্তি ও কৌশলের মাধ্যমে বিষয়গুলো আয়ত্ত করার সুযোগ তৈরি হয়।

বইটির কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রশংসাসূচক প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কায়সার আহমেদ রকি। তাঁর মতে, ‘দ্য পার্ক মডেল’ পর্যায় সারণি ও পারমাণবিক সংখ্যা মনে রাখার ক্ষেত্রে একটি নতুন ও কার্যকর দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এইচএসসি শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থী এবং উচ্চশিক্ষায় রসায়ন অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি বিষয়টির প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তবে ‘দ্য পার্ক মডেল’-এর গল্প শুরু হয়েছে বই প্রকাশের অনেক আগেই। লেখক রাকিব আহমাদের এই ভাবনার সূচনা নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়। নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেন, কিছু বিষয়কে প্রচলিত মুখস্থপদ্ধতির বাইরে গিয়ে কৌশল ও যুক্তির মাধ্যমে শেখানো সম্ভব। সেই চিন্তা ধীরে ধীরে পরিণত হতে থাকে একটি পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতিতে।

রাকিব আহমাদ বলেন, “শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ধাপে চিন্তা, সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমে এটি পূর্ণতা পায়। প্রায় পাঁচ বছরের প্রচেষ্টায় ২০১৯ সালের মার্চে মূল রূপ দাঁড় করালেও প্রকাশনা-সংক্রান্ত নানা জটিলতায় বইটি প্রকাশ্যে আসতে সময় নেয়।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৬ সালে বইটি প্রকাশিত হওয়ায় নিজের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপকারের বিষয়টিকেই সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন রাকিব। তাঁর ভাষায়, “এই বইয়ের মাধ্যমে যদি একজন শিক্ষার্থীও রসায়নের ভয় কাটিয়ে বিষয়টিকে ভালোবাসতে শেখে, তবেই আমার পরিশ্রম সার্থক।”

রসায়নে নিজের সফলতার অভিজ্ঞতাও রয়েছে রাকিব আহমাদের। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময় রসায়ন ছিল তাঁর অন্যতম শক্তিশালী বিষয়। সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের শেখার সমস্যাগুলোকে সামনে রেখেই তিনি ‘দ্য পার্ক মডেল’কে একটি কার্যকর শেখার পদ্ধতি হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন।

শুধু একটি বই হিসেবে নয়, ‘দ্য পার্ক মডেল’কে শিক্ষার্থীদের রসায়ন শেখার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিনের মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে কৌশল, যুক্তি ও সহজ স্মরণপদ্ধতির মাধ্যমে রসায়ন শেখার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিষয়ভীতি কমিয়ে কৌতূহল বাড়াতে কতটা ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে পাঁচ বছরের অধ্যবসায় থেকে জন্ম নেওয়া এই উদ্যোগ অন্তত একটি বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে কঠিন মনে হওয়া কোনো বিষয়ই হয়তো অসম্ভব নয়, প্রয়োজন শুধু সেটিকে শেখার নতুন পথ খুঁজে নেওয়া।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়