বুধবার ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:৪১, ২২ জুলাই ২০২৬

বার্গার খেয়ে পদ হারালেন ‘ককরোচ পার্টির’ মুখপাত্র

বার্গার খেয়ে পদ হারালেন ‘ককরোচ পার্টির’ মুখপাত্র
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে পুলিশ-আন্দোলনকারী সংঘর্ষের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তৎকালীন মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়াকে বার্গার খেতে দেখা যাওয়ার পর সমালোচনার মুখে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দলটি।

সোমবারের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের হিসাবে, সংঘর্ষে অন্তত ১৭৮ জন আহত হয়েছেন।

এই ঘটনার মধ্যেই ভাইরাল হওয়া ভিডিও ঘিরে প্রশ্ন ওঠে আন্দোলনের সময় দলের নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও। পরে এক বিবৃতিতে সিজেপি জানায়, দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে এমন আচরণ দলীয় নীতি ও আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই বিজেতা দাহিয়াকে মুখপাত্রের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন বিজেতা দাহিয়া। তার দাবি, এটি পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো অপপ্রচার এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি অতিরঞ্জিত করতে প্রতিপক্ষের আইটি সেল কাজ করেছে।

বার্গার খাওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে দাহিয়া বলেন, দীর্ঘ সময় টানা দায়িত্ব পালন করার পর তাঁর ক্ষুধা পেয়েছিল। তাই খাবার খাওয়াকে বিতর্কের বিষয় বানানো অযৌক্তিক। তাঁর ভাষ্য, একজন মানুষের ক্ষুধা লাগলে খাবার খাওয়াই স্বাভাবিক, এতে আন্দোলনের প্রতি তার দায়বদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কথা নয়।

দাহিয়ার দাবি, সংসদের দিকে পদযাত্রা শেষ হওয়ার পর তিনি কিছু সময়ের জন্য সেখান থেকে বেরিয়ে যান। পরে সন্ধ্যায় আবার কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। আন্দোলনের প্রস্তুতি, সমন্বয় ও অতিথি ব্যবস্থাপনায় তিনি দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন দাহিয়া। তার বক্তব্য, আন্দোলনের স্বার্থে যদি তাকে দায়িত্ব ছাড়তে হয়, তাতেও তিনি প্রস্তুত। ব্যক্তি নয়, আন্দোলনের লক্ষ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্দোলনের সময় নেতৃত্বশূন্যতার অভিযোগেরও জবাব দেন দাহিয়া। তিনি বলেন, সে সময় দলের অন্য দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রথমে কর্মসূচি কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পদযাত্রা শুরু করা হয়।

জনপ্রিয়