সোমবার ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:১৫, ৯ মার্চ ২০২৬

প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে গড়ে তোলা হবে: আইজিপি

প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে গড়ে তোলা হবে: আইজিপি
ছবি: সংগৃহীত

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, বিগত সময়ে পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। জনআস্থা পুনরুদ্ধারে আমাদেরকে সচেষ্ট থাকতে হবে। এজন্য প্রতিটি জেলার সদর থানাকে জিরো কমপ্লেইন থানা হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। একজন সার্কেল অফিসার ওই থানার সার্বিক কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবেন। আমরা এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে চাই, যাতে থানায় আগত মানুষ হাসিমুখে থানা থেকে ফিরতে পারেন।

আজ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের নির্মূল করা পুলিশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা পুলিশের প্রধান কাজ। পুলিশের সেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে। অপরাধী যত বড়ই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিশোর গ্যাংদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আইজিপি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক না হলে দেশের উন্নয়ন হবে না। সে কারণে কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যন্ত অপরাধ বন্ধে পুলিশ কাজ করছে। চাঞ্চল্যকর কোন ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গণধর্ষণ, ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সিআইডিকে আরো আধুনিকায়নের মাধ্যমে মামলা তদন্তের গুণগত মান বাড়াতে চাই। মামলার তদন্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

তিনি আরও বলেন, ‘সৎ, দক্ষ ও মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম ও অসৎ কাজ সহ্য করা হবে না। ’

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত আইজি এ কে এম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজি মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত আইজি সরদার নূরুল আমিন প্রমুখ।

আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত ঐতিহ্যবাহী এক সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। দেশের যেকোনো প্রয়োজন ও সংকট মুহূর্তে এই বাহিনীর সদস্যরা সবসময় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। আমরা আমাদের ওপর অর্পিত সকল দায়িত্ব আন্তরিকভাবে পালনে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। সে লক্ষ্যে দেশে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে আমার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনার কোন সুযোগ নেই।’  

ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ব্লক রেইড দিয়ে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান আইজিপি।

আইজিপি আরও বলেন, পুলিশের ‘রিঅ্যাকশন টাইম’ ন্যূনতম মাত্রায় নিয়ে আসা হবে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঈদে সড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। মহাসড়কে কোন ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দস্যুতা হতে দেওয়া হবে না। মহাসড়কে ডাকাতি রোধে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দেশের প্রধান প্রধান মার্কেটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চুরি, ছিনতাই রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পোশাক শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়ে প্রায়ই এক ধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়, যা আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলে। আসন্ন ঈদে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে এমন গার্মেন্টস বা শিল্প প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি শ্রমিক নেতা, মালিক এবং বিজেএমই’র সঙ্গে সমন্বয়ে মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মৌলবাদীদের উত্থান রোধে আমাদের সজাগ ও সতর্ক নজরদারি বজায় থাকবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, জনগণ রাষ্ট্রের মূল শক্তি। তাই আমরা সব সময় জনগণের পাশে থেকে তাদেরকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর। আপনাদের সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি দক্ষ, জনবান্ধব, প্রযুক্তি নির্ভর ও জবাবদিহিমূলক পুলিশ গঠনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রতৃত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সকলে একযোগে কাজ করে বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবো।’

তিনি বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নাগরিকগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

বাংলাদেশ পুলিশের সকল ইতিবাচক কার্যক্রমে আমরা সবসময় গণমাধ্যমের সার্বিক সহযোগিতা পেয়ে আসছি। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। 

সর্বশেষ