মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:০৮, ৪ আগস্ট ২০২৬

মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ফজলুর রহমান

মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ফজলুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১৬ আগস্ট বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এ সময়কে সামনে রেখে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের জোর আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম, জনমত, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং মন্ত্রীদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে একটি মূল্যায়ন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই মূল্যায়নের ফলেই মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতায় পিছিয়ে থাকা কিংবা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন—এমন কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে বাদ দেওয়া হতে পারে। তাদের স্থানে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন প্রতিনিধিকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

দলীয় অঙ্গনে সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ফজলুর রহমান। এছাড়া ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নামও সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে ঘুরে ফিরে আসছে। তবে এদের মধ্যে কেউ রাষ্ট্রপতি বা জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে মনোনীত হলে মন্ত্রিসভায় তাদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

পুনর্গঠন হলে নতুন করে মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, রকিবুল ইসলাম বকুল এবং বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিম।

অন্যদিকে সমমনা দলগুলোর মধ্য থেকেও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম উল্লেখযোগ্য।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে অনেক মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স এবং আচরণ সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলেও সরকারের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হলেও আপাতত তাদের অপসারণ না করে সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর চূড়ান্ত মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্রগুলো বলছে, মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত নিরসনের সক্ষমতা, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ, সচিবালয় ও মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিকে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের মতে, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর প্রশাসনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের আচরণ, সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার বিষয়ে তিনি একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের মধ্যে সুশাসন, জবাবদিহি ও কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করতেই এই মূল্যায়ন ও সম্ভাব্য পুনর্গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

গত ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন কিংবা নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এটি ঠিক ১৮০ দিন পূর্তির সঙ্গে সঙ্গেই হবে, নাকি আরও কিছু সময় পরে—সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়