বিএনপি সরকারে আসলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে : তারেক রহমান
আগামীতে বিএনপির সরকারে আসলে যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে বলে ঘোষণা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতে প্রমাণ হয়েছে বিএনপির পক্ষেই একমাত্র সফলভাবে যে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেটি হলো দুর্নীতি। এ দেশের মানুষের কাছে দুটি বিষয়ই হচ্ছে বিএনপির কমিটমেন্ট। একটা হচ্ছে দূর্নীতি প্রতিরোধ আরেকটা হচ্ছে মানুষের নিরাপত্তা।
তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা হবে- আইন সবার জন্য সমান। অপরাধের পরিচয় কোনো দল নয়, অপরাধীই অপরাধী। দুর্নীতি যে করুক, যারাই করুক, তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন একইভাবে প্রযোজ্য হবে।
আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। আগামীতে সরকারে গেলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
আরেকটি বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। এটা যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ না করি, তাহলে আমাদের কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। অতীতে প্রমাণ হয়েছে, একমাত্র যে বিষয়টি বিএনপির পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেটি হলো দুর্নীতি। যে কোনো মূল্যে আগামীতে বিএনপির সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ দেশের মানুষের কাছে এই দুটি বিষয়ই আমাদের কমিটমেন্ট- বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, এই দুটি বিষয়ে কঠোরভাবে নজর দিতে হবে। এই দুটি বিষয় বাংলাদেশের মানুষকে বহু কিছু থেকে বঞ্চিত করেছে। এই দুটি বিষয় নিয়ন্ত্রণে একমাত্র বিএনপিই যে সফলভাবে পারে, তা বিএনপি অতীতে প্রমাণ করে দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষ যাতে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে চাকরি-বাকরি সব কিছু নির্বিঘ্নে করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। বিগত সময়ে বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছিলেন, তখন আপনারা দেখেছেন- আমাদের দলের অনেক লোক যদি কোনো অনৈতিক কাজে জড়িত থেকেছে, আমরা তাদেরও ছাড় দিইনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ যদি বিএনপির পাশে থাকে, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে আমরা একইভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করব। যাতে করে দেশের সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
বিএনপি সরকারে আসলে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী করার উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, এ অঞ্চলে মানুষের একটি বড় দাবি আছে, যেটির উদ্যোগ বিএনপি সরকার গ্রহণ করেছিল, কিন্তু সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ করে দিতে পারেনি। আমরা দেখেছি গত ১৫ বছর এই উদ্যোগ নিয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এই উদ্যোগ নেওয়া হলে শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশের মানুষের কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে। সেই উদ্যোগটি হচ্ছে ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’।
ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে বেগম খালেদা জিয়ার সেই ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ করার উদ্যোগ যত দ্রুত সম্ভব বিএনপি বাস্তবায়ন করবে।
চট্টগ্রামসহ সারা দেশের জলাবদ্ধতার সমস্যা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে সমগ্র বাংলাদেশের খালকাটা কর্মসূচি চালু করতে চাই। ইনশাআল্লাহ আমরা দু’হাতে কোদাল দিয়ে খাল খনন শুরু করব, যাতে করে জলাবদ্ধতার বড় সমস্যা দূর করা যায়।
তিনি বলেন, এই চট্টগ্রামে ইপিজেড আছে, যেখানে মানুষ চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনাদের জানা আছে, এই ইপিজেডগুলো বিএনপির আমলেই হয়েছিল। আগামীতে যদি আমরা সরকার গঠন করি, তাহলে এরকম আরও অনেক ইপিজেড গড়ে তুলবো।
চট্টগ্রামের সঙ্গে গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের এক গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুনিশ্চিত সুযোগ পাবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আজ সময় এসেছে- অর্থবহ পরিবর্তনের জন্য। এই পরিবর্তনের জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এখানে অনেক নতুন ভোটার রয়েছেন, যারা বিগত ১৫-১৬ বছর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বি দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন আপনাদের কাছে আমার প্রত্যাশা- কখন যাবেন ভোট দিতে? এবার ফজরে গেলে হবে না। এবার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার জন্য উঠতে হবে। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়বেন এবং যার যে ভোট কেন্দ্র, ভোট কেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করবেন। তারপর লাইন দিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে যাবেন, যখনই ভোট কেন্দ্র খুলবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক এরশাদ উল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, আসলাম চৌধুরী এফসিএ, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, এসএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সরওয়ার জামাল নিজাম, সাঈদ আল নোমান প্রমুখ।



























