রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:২২, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বললেও বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি জয়

নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বললেও বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি জয়
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে তার কোনো আপত্তি নেই। তবে তিনি সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
 
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি সবসময় সংলাপের পক্ষপাতী, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, যার সঙ্গেই হোক আলোচনার দরজা খোলা রাখা উচিত।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নির্বাচন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত জয়ের সাক্ষাৎকার নেন আইটিভির সাংবাদিক মাহাথির পাশা। শনিবার ভোরে সেটি সম্প্রচারিত হয়।

সাক্ষাৎকারে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে এবং বিরোধী শক্তিকে নিষিদ্ধ করে যে নির্বাচন হয়েছে তাকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলা যায় না।

তার মতে, এমন নির্বাচন টেকসই হবে না এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সম্ভাব্য ইতিবাচক মূল্যায়ন সম্পর্কেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগের প্রসঙ্গে জয় বলেন, তিন নির্বাচনের মধ্যে দুটিতে বিরোধী দল অংশ নেয়নি। অন্যটিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপেই আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পূর্বাভাস ছিল।

তিনি স্বীকার করেন, প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি অনিয়ম করে থাকতে পারেন এবং সেগুলোর তদন্ত হওয়া উচিত ছিল। তবে তার দাবি, এসব অনিয়ম সামগ্রিক ফলাফল বদলে দিত না। 

জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনায় ‘কিছু ব্যর্থতা’ স্বীকার করে জয় বলেন, সব মৃত্যুর দায় সরকারকে দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। তার মতে, ওই সময়ে শত শত পুলিশ সদস্য ও দলীয় কর্মীও নিহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কখনও বাংলাদেশে ফেরেন, তার সামনে কী অপেক্ষা করছে? তা নিয়ে জয় উদ্বিগ্ন কি না এ প্রশ্নের উত্তরে জয় বলেন, এ বিষয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন, কারণ তার বিশ্বাস, দেশের ‘অন্তত অর্ধেক জনগণ’ এই নির্বাচনকে কখনও ‘মেনে নেবে না’। 

বাংলাদেশে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আছে কি না জানতে চাইলে জয় বলেন, ‘অবশ্যই একসময় ফিরব। দেখুন—তারেক রহমান দণ্ডিত হয়েছিলেন অথচ তিনি এখন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী। এসব পরিস্থিতি চিরস্থায়ী হয় না।

বাংলাদেশে মুজিব পরিবার ও জিয়া পরিবারে বংশানুক্রমিক নেতৃত্বের অবসান হওয়া উচিত কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা কি বংশানুক্রমিক রাজনীতি? আমরা নিজেরা রাজনীতিতে থাকতে চাই? নাকি তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ দলীয় কাউন্সিলে বারবার আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন? প্রশ্নটা সেখানেই। দেখুন, আমি যদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চাইতাম, অনেক আগেই হতে পারতাম। আমার মা এক দশকের বেশি সময় ধরে আমাকে নির্বাচনে দাঁড়াতে, সংসদ সদস্য হতে উৎসাহ দিয়ে আসছিলেন।’

জয়ের প্রধানমন্ত্রী না হতে চাওয়ার উত্তরে বলেন, ‘কারণ জীবনে এমন মানুষও থাকে, যারা যা আছে, তাতেই সন্তুষ্ট। সবাই ক্ষমতা বা অর্থকে জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে দেখে না। আমার কখনোই ক্ষমতা বা টাকার প্রতি লোভ ছিল না। আমি স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারলেই খুশি।’