সাংবাদিক নিপীড়নের রেকর্ড ড. ইউনূসকে আমৃত্যু বহন করতে হবে : নাদিম
সাংবাদিক নিপীড়নের রেকর্ড আমৃত্যু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে বহন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও গবেষক ড. নাদিম মাহমুদ। তিনি বলেছেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া অছাত্রকে জুলাই শহীদ বানিয়ে মামলা দিয়েছে সাংবাদিকদের নামে।
সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
নাদিম মাহমুদ তার পোস্টে লেখেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশে সাংবাদিকদের ওপর যে ভয়াভয় নিপীড়ন হয়েছে, তা লিখবার ‘স্বাধীনতা’ সেই সময় সব গণমাধ্যমের ছিল না। সাংবাদিক নিপীড়ন নিয়ে আমরা যখন লেখালেখি করেছি, প্রতিবাদ করেছি, তখন একদল মানুষ এসে বলত, ওরা তো ‘শেখ হাসিনার’ সুবিধাভোগী, ছাত্র-জনতা হত্যার উসকানিদাতা, ওদের জেলেই থাকা উচিত। বিচারহীনতায় মাসের মাস কয়েকজন সাংবাদিক ‘হত্যামামলায়’ জেলে আছেন।
ওদের মুক্তির বিষয়ে কার্যত সাংবাদিকরা এগিয়ে আসেননি। সমালোচনার মুখে ইউনূসের সুবিধাভোগীদের মধ্যে কেউ কেউ অবশ্য বলত, ‘হত্যা মামলায়’ নিয়ে দিয়ে অন্য কোনো মামলায় দেওয়া যেত। কিন্তু কালের কণ্ঠের এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি পড়েন। দেখবেন, এখানে ঢাকার সেইসব সাংবাদিকদের নামই নেই, যাদের নাম ভাঙিয়ে ইউনূস সরকার ও তার প্রেস টিম সাংবাদিক নিপীড়নের সম্মতি উৎপাদন করত।
ঘুরে ফিরে ঢাকার গুটিকয়েক সাংবাদিকদের সামনে এনে, জেলে থাকা সাংবাদিকদের বিষয়ে উসকানি দিত। কিন্তু কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনটি বেশ চকৎকারভাবে দেশের আনাচে কানাচে যেসব সাংবাদিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের একাংশের চুম্বক অংশ তুলে আনার চেষ্টা করেছে। দেখা যাচ্ছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া অছাত্রকে ‘জুলাই শহীদ’ বানিয়ে মামলা দিয়েছে সাংবাদিকদের নামে। ছাত্রলীগ মরেছে, জুলাই শহীদ বানিয়ে মামলা হয়েছে মফস্বল সাংবাদিকদের নামে। বাদী জানে না, মামলার আসামি, কিন্তু ঠিকই প্রতিশোধ পরায়ণতায় মামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা।”
তিনি আরো লেখেন, “কি জঘন্য কাজ করার পরও ‘ইউনূসের প্রেস’ টিম নিয়মিত মিথ্যাচার করেছে। অর্ধশত মামলায় ২৮২ জন সাংবাদিকদের নামে হত্যা ও হত্যাচেষ্টায় মামলা করিয়েছে। মামলা দেখিয়ে পত্রিকার অফিস দখল করা হয়েছে, মব করা হয়েছে। সাংবাদিকদের ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন করিয়েছে, ব্যাংক ফ্রিজ করিয়ে ‘মিথ্যা’ অপতথ্য ফিড করানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। এতো কিছু করার পরও তারা সাফাই গেয়েছে, ‘গণমাধ্যমের সেরা স্বাধীনতা’ হিসেবে। এই যদি হয় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, তাহলে দেড় বছরে ৮১৪ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির শিকার হলেন কীভাবে?”
নাদিম মাহমুদ বলেন, “গণমাধ্যমের ইতিহাসে সেরা ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ তৈরি করিয়ে, তারা নিজেদের ক্ষমতা ভোগ করেছে। ভেবেছিল, তাদের এই নোংরামির খবর কেউ বের করতে পারবে না, কিন্তু দিন শেষে আন্তজার্তিক সংস্থাগুলোই তাদের আমলের গণমাধ্যমের নিম্নমানের স্বাধীনতার কথা বলেছে। নোবেল জয়ী এখন বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে জাতির সামনে উঠে এসেছেন। ক্ষমতালোভ আর স্বার্থের দ্বন্দ্বের খেসারত কতটা ভয়ানক হতে পারে, তা অধ্যাপক ইউনূসের শাসনামল জাতি মনে রাখবে। তিনি যতদিন বাঁচবেন, ততদিন গ্লানি কাঁধে নিয়ে চলতে হবে।”



























