রোববার ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:২৮, ৮ নভেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগ-বিএনপি ঘুরে ফের আওয়ামী লীগের পদপ্রত্যাশী!

আওয়ামী লীগ-বিএনপি ঘুরে ফের আওয়ামী লীগের পদপ্রত্যাশী!
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজনীতিতে দলীয় আদর্শ ও অবস্থানের পরিবর্তন নিয়ে তুরাগের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছেন রাসেল মাহমুদ। একসময় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাকে দেখা গেলেও, পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বলয় পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। 

বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা এবং বিভিন্ন সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ আবারও আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদপ্রত্যাশী হওয়ার বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, একসময় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় উপস্থিতি থাকলেও গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে দলটির কর্মসূচিতে রাসেল মাহমুদের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি। বিএনপি নেতা চান মিয়ার মেয়েকে বিয়ের পর থেকেই তার রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন আসতে শুরু করে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তুরাগ এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাসেল মাহমুদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। শুধু বিএনপির বলয়েই নয়, বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপির পক্ষেও তাকে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

এদিকে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তুরাগ এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনাও ঘটিয়েছেন রাসেল মাহমুদ। 

এমনকি রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অন্যের ব্যবসা-বাণিজ্য ভোগদখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এক্ষেত্রে তার শ্বশুর চান মিয়ার রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবও আলোচনায় এসেছে। চান মিয়া তুরাগ থানা বিএনপির এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব হাজী মোহাম্মদ মোস্তফা জামানের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। সম্প্রতি তুরাগ থানা বিএনপির সভাপতি পদে চান মিয়াকে একক প্রার্থী হিসেবে সামনে আনার আলোচনা চলছে বলেও জানা গেছে।

তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে রাসেল মাহমুদের নতুন করে আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদপ্রত্যাশী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে। 

প্রশ্ন একটাই—রাজনীতি, নাকি ক্ষমতার সুবিধা?

যে ব্যক্তি একসময় আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে ছিলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর বিএনপির বলয়ে অবস্থান নিয়েছেন, আবার কখনো এনসিপির পক্ষেও কথা বলেছেন, তিনি এখন কোন রাজনৈতিক আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করছেন?

৫ আগস্টের পর যারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ যদি আবার আওয়ামী লীগের পদ-পদবি পাওয়ার প্রত্যাশা করেন, তাহলে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবস্থান কোথায়?

তুরাগের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার বিষয় রাসেল মাহমুদের এই রাজনৈতিক ভোলবদল। প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক আদর্শ কি কেবল ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে পরিবর্তিত হবে? নাকি দলীয় পদ-পদবি পাওয়ার আগে অতীত কর্মকাণ্ডেরও কোনো মূল্যায়ন হওয়া উচিত?

তুরাগের রাজনৈতিক অঙ্গনে রাসেল মাহমুদের অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন সময়ের দাবি।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়