রোববার ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:২৭, ৮ নভেম্বর ২০২৬

শ্যামাপূজা ও দীপাবলির রঙে বদলে গেছে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার

শ্যামাপূজা ও দীপাবলির রঙে বদলে গেছে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার
ছবিঃ সংগৃহীত

পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারের প্রধান সড়কে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিশাল এক তোরণ। সড়কের দুই পাশে আর মাথার ওপর রঙিন আলোকসজ্জা। কোথাও মন্দিরের সাজসজ্জা, কোথাও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শ্রীশ্রী শ্যামাপূজা (কালীপূজা) ও দীপাবলি উৎসবকে ঘিরে সন্ধ্যা নামার আগেই উৎসবের রঙে বদলে যেতে শুরু করে পুরান ঢাকার ব্যস্ত এই এলাকা।

রোববার (৮ নভেম্বর) শাঁখারীবাজার ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দা, পূজার আয়োজক ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উৎসব ঘিরে ব্যস্ততা দেখা যায়। বিভিন্ন মন্দির ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ভক্তরা শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। কেউ প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছেন, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে দেখছেন সাজানো মণ্ডপ। আলোকসজ্জা ও পূজার আয়োজন দেখতে আসছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। আলোকসজ্জার সৌন্দর্য মুঠোফোনে ক্যামেরাবন্দি করতেও ব্যস্ত দেখা যায় অনেককে।

সড়কজুড়ে সাজসজ্জার পাশাপাশি বসেছে নানা পণ্যের পসরা। কোথাও মুড়ি, বাতাসা ও মিষ্টির দোকান, কোথাও চটপটি আর মুখরোচক খাবারের আয়োজন। শিশুদের আকর্ষণ করতে রয়েছে মাটির পুতুল ও নানা ধরনের খেলনা। পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রির দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা যায়। সব মিলিয়ে ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে ছোটখাটো মেলার পরিবেশ।

স্থানীয়রা জানান, শ্যামাপূজা ও দীপাবলি কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সামাজিক জীবনেরও অংশ। প্রতি বছর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে শাঁখারীবাজার ও আশপাশের এলাকায় তৈরি হয় বিশেষ আবহ।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা প্রিয়ম সরকার বলেন, “সন্ধ্যা থেকে মন্দির ও আশপাশের এলাকায় প্রদীপ ও মোমবাতি প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। রাত ১১টার পর নিশীথকালে দেবী কালীর বিশেষ পূজা ও মন্ত্র পাঠের আয়োজন রয়েছে। পূজা শেষে অঞ্জলি, হোমযজ্ঞ ও মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।”

দীপাবলির অন্যতম অনুষঙ্গ প্রদীপ প্রজ্বলন। এদিন অনেকে প্রয়াত স্বজনদের স্মরণেও প্রদীপ জ্বালাবেন। অন্ধকার দূর করে আলোর জয় এবং শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে এই উৎসব উদযাপন করা হয়।

শাঁখারীবাজারের প্রবীণ বাসিন্দা শ্রীকান্ত দাস বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এখানে শ্যামাপূজা ও দীপাবলির আয়োজন দেখে আসছি। সময়ের সঙ্গে আয়োজনের ধরন বদলেছে, আলোকসজ্জা বেড়েছে, কিন্তু উৎসবের আনন্দ ও ঐতিহ্য একই রয়েছে। এই কয়েকটি দিন পুরো এলাকায় অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়। শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষও এই উৎসব দেখতে আসেন। আমরা চাই, এই ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অটুট থাকুক।”

পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার ও পার্শ্ববর্তী তাঁতীবাজার রাজধানীতে কালীপূজা উদযাপনের অন্যতম পরিচিত কেন্দ্র। দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যকে ঘিরে প্রতি বছর মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও সমাগম ঘটে।

এদিকে উৎসবকে কেন্দ্র করে এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখা গেছে। শাঁখারীবাজার ও আশপাশের এলাকায় পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও চোখে পড়েছে।

প্রদীপের আলো, রঙিন সাজসজ্জা, ধর্মীয় আচার সব মিলিয়ে শাঁখারীবাজারে তৈরি হয়েছে উৎসবের এক ভিন্ন আবহ। আগামী কয়েক দিন এই আয়োজনকে ঘিরে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এলাকাটিতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

জনপ্রিয়