শনিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৩০, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

ওসমানী হাসপাতালে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

ওসমানী হাসপাতালে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত এক নারী শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত ও হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে এ কর্মবিরতি শুরু হয়। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

ওসমানী হাসপাতালের উপপরিচালক মাহবুবুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের চারতলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজনেরা প্রথমে ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্সদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তারা ওয়ার্ডে ভাঙচুর চালান এবং এক নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর ওসমানী হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনকে আটক করেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন—সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), তার স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) এবং একই উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)।

হামলার সময় আটক তিনজনও আহত হন। তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপর একজন ওসমানী হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় তিনজন ওয়ার্ডবয় আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে শুক্রবার রাতেই এক বিবৃতিতে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা জানান, মধ্যরাতে কর্তব্যরত এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা চরম লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি চলবে।

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ