বুধবার ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

মোঃ আশরাফুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৪৬, ৩০ জুন ২০২৬

ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ কাণ্ডে তোলপাড় তেঁতুলিয়া

ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ কাণ্ডে তোলপাড় তেঁতুলিয়া
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহিন খসরুর বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী রেহেনা বেগম উর্মির দাবি, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও চাকরি না পেয়ে এবং ইউএনওর বদলির খবর জানতে পেরে তিনি টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো অপমান ও ভয়ভীতির মুখে পড়েন। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ইউএনও একে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে রেহেনা বেগম পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী না থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়ে তিনি তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সরকারি সহায়তার আশায় যান। সেখানে কথোপকথনের একপর্যায়ে ইউএনও তার ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন।

রেহেনা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি ধারদেনা করে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন। বাকি টাকা চাকরিতে যোগদানের পর পরিশোধ করবেন বলেও জানান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সোমবার সকালে ইউএনওর বদলির খবর জানতে পেরে তিনি দুপুরে তার কার্যালয়ে গিয়ে টাকা ফেরত চান। কিন্তু ইউএনও তাকে চিনতে অস্বীকার করেন। এ সময় উপজেলা চত্বরে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হলে রেহেনা বেগম ফেসবুকে লাইভে এসে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। মুহূর্তেই সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সোমবার সকালে ইউএনওর বদলির খবর জানতে পেরে তিনি দুপুরে তার কার্যালয়ে গিয়ে টাকা ফেরত চান। কিন্তু ইউএনও তাকে চিনতে অস্বীকার করেন। এ সময় উপজেলা চত্বরে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হলে রেহেনা বেগম ফেসবুকে লাইভে এসে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। মুহূর্তেই সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

রেহেনা বেগমের অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে তিনি অপমানিত হয়েছেন। এমনকি তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক করার ভয় দেখানো হয়। তার ছোট ছেলেকে কিছু সময়ের জন্য আটকে রেখে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ধারদেনা করে দেওয়া টাকাটি ফেরত না পেলে পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়বেন। এ কারণে ন্যায়বিচার ও টাকা ফেরতের আশায় জেলা প্রশাসকের শরণাপন্ন হয়েছেন।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তেঁতুলিয়ার ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ওই নারীকে চিনি না। আমার বিরুদ্ধে কেউ পরিকল্পিতভাবে ঘুষের নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই নারীর সঙ্গে আমার কখনও দেখা বা কথা হয়নি। এছাড়া যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে, সেটি আগেই বাতিল করা হয়েছে। তার ছেলের নামে কোনো আবেদনও নেই।”

ঘটনাটি ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকেই এখন সবার নজর।

জনপ্রিয়