মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৪৫, ২৯ জুন ২০২৬

পঞ্চগড়ে সাবেক এমপির স্ত্রী মেজর মৌসুমী কারাগারে

পঞ্চগড়ে সাবেক এমপির স্ত্রী মেজর মৌসুমী কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাঈমুজ্জামান মুক্তার স্ত্রী, যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর কাজী মৌসুমীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও পঞ্চগড় যুব মহিলা লীগের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিনকেও জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ মাহাবুব আলী মুয়াদ আত্মসমর্পণের পর তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়ায় নিজ বাসভবনে কেক কাটার আয়োজন করেন কাজী মৌসুমী। পরে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ২১ জুলাই সদর থানার উপ-পরিদর্শক মানিক মিয়া বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় কাজী মৌসুমী পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন।

জামিনের মেয়াদ শেষে জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শুনানিতে কাজী মৌসুমীর পক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ. হাসান প্রধানসহ অ্যাডভোকেট মির্জা সারওয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অ্যাডভোকেট মির্জা সারওয়ার হোসেন বলেন, উচ্চ আদালতের শর্ত অনুযায়ী কাজী মৌসুমী তদন্ত কর্মকর্তার ডাকে সাড়া দিয়েছেন। এছাড়া তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এবং তার এক প্রতিবন্ধী সন্তান চিকিৎসাধীন রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার আবেদন করা হলেও আদালত জামিন মঞ্জুর করেননি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল বলেন, মামলার জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছে। আদালতে উপস্থাপন করা হয় যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমকে গোপনে উৎসাহিত করা, 'জয় বাংলা' স্লোগান দেওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে শিগগিরই অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

জনপ্রিয়