মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরে ডিজিটাল ঝুঁকি নিয়ে আঞ্চলিক আলাপন, সচেতনতার আহ্বান

দিনাজপুরে ডিজিটাল ঝুঁকি নিয়ে আঞ্চলিক আলাপন, সচেতনতার আহ্বান
ছবিঃ সংবাদ পরিক্রমা

ডিজিটাল যুগে ভুয়া তথ্য, অনলাইন প্রতারণা, সাইবার হয়রানি ও অনলাইন জুয়ার মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে দিনাজপুরে ‘স্থানীয় ডিজিটাল ঝুঁকি, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক আঞ্চলিক আলাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আইআইডির ইউথ ফর পলিসি, ডিডিআই সাউথ এশিয়া এবং অ্যাকাউন্টেবিলিটি ল্যাবের সহযোগিতায়, ওয়াইএফপি ইনফো চেক সার্কেলের বাস্তবায়নে লেট ডিজিটাল সিভিক্স অ্যালার্ট নেটওয়ার্ক প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানটি মূলত ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) থেকে পরিচালিত ফেলোশিপ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়। ফেলোশিপের আওতায় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষার্থী—তানজিলা ইসলাম রিফা, আবদুল্লাহ আল মামুন, স্নেহা হেমব্রম, ক্রিশ্চিনা মার্ডি এবং তৌহিদুল ইসলাম তুরাগ—গত দুই মাস ধরে দিনাজপুরের স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করেন। তারা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে ডিজিটাল সেবা গ্রহণ, অনলাইন ঝুঁকি ও নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং সমস্যা চিহ্নিত করার কাজ করেন।

এই দুই মাসের মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা ও জরিপের ফলাফল নিয়ে আয়োজিত হয় আজকের এই আঞ্চলিক আলাপন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও উপস্থাপনা করেন ফেলোশিপ প্রোগ্রামের ফেলো তানজিলা ইসলাম রিফা।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস.এম. হাবিবুল হাসান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মাজহারুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম, দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নূর নবী, অধ্যাপক ডা. এটিএম রেজাউল হক, অধ্যাপক ড. রোজিনা ইয়াসমিন, ড. শেখ মোস্তাক আহম্মদ, সহকারী অধ্যাপক মো. ফজলে রাব্বি, নারী উদ্যোক্তা, সাংবাদিক, শিক্ষক, যুব প্রতিনিধি, সহকারী প্রোগ্রামারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে ফেলোদের পরিচালিত স্থানীয় পর্যায়ের জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারী উত্তরদাতাদের অভিজ্ঞতায় অনলাইন আর্থিক প্রতারণা, ভুয়া তথ্য প্রচার, ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অনলাইন বেটিং ও জুয়া এবং সাইবার হয়রানির মতো বিষয়গুলো ডিজিটাল ঝুঁকি হিসেবে উঠে আসে।

আলোচনায় ডিজিটাল সেবা গ্রহণে মানুষের বিভিন্ন বাধা, তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, অভিযোগ ও সহায়তা পাওয়ার পথ এবং স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে সচেতনতা, তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তরুণদের তথ্য-সচেতন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আলোচনায় আরও উঠে আসে, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং তরুণদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি, অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ, ভুয়া তথ্য শনাক্তকরণ এবং অভিযোগ ও সহায়তা ব্যবস্থার বিষয়ে মানুষের জ্ঞান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অতিথিরা বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ ধরনের মাঠপর্যায়ের গবেষণা ও উদ্যোগ স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে সহায়ক হবে। দিনাজপুরের মতো প্রান্তিক জেলায় ডিজিটাল ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এমন আলোচনা ভবিষ্যতে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় অতিথিরা তানজিলা ইসলাম রিফাসহ পাঁচজন ফেলোর উদ্যোগ, পরিশ্রম ও মাঠপর্যায়ে কাজের জন্য তাদের সাধুবাদ জানান। স্থানীয় মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের আলোচনায় নিয়ে আসার এই উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক ও সময়োপযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন।

জনপ্রিয়