বুধবার ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৩৪, ২৫ মার্চ ২০২৬

৩২ বছর ধরে ‘পলাতক’ সাজাপ্রাপ্ত আসামি, বিমানবন্দরে চালাচ্ছেন দাপুটে ব্যবসা!

৩২ বছর ধরে ‘পলাতক’ সাজাপ্রাপ্ত আসামি, বিমানবন্দরে চালাচ্ছেন দাপুটে ব্যবসা!
ছবি: সংগৃহীত

চেক জালিয়াতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েও দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে ‘পলাতক’ রয়েছেন খান মোহাম্মদ ইকবাল। আদালতের নথিতে আত্মগোপনে থাকলেও বাস্তবে দেশের একাধিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রকাশ্যে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন তিনি। রহস্যজনক কারণে তাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে পাওনা টাকার বিপরীতে দেওয়া একটি চেক ব্যাংক থেকে ডিজঅনার হলে আসাদুজ্জামান ফারুক ইকবালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানি শেষে কিশোরগঞ্জের তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান তাকে ৪ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ড দেন।

রায়ের দিন ইকবাল আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। এরপর থেকে তিনি আর কখনো আত্মসমর্পণ করেননি। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এতদিনেও তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু তালেব বলেন, “এই ব্যক্তি আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে ৪ বছরের সাজা রয়েছে। আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “৪ বছরের সাজা নিয়ে ৩২ বছর পলাতক থাকা নজিরবিহীন ঘটনা। আমরা তাকে গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

জানা গেছে, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে তার একাধিক ব্যবসা রয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে ‘চিকেন এক্সপ্রেস’ নামে একটি খাবারের দোকান, ‘আইটি সেন্টার’ নামে ফাস্ট ফুড আউটলেট, ‘এয়ারপোর্ট প্রোটোকল সার্ভিস’ এবং ‘আলভি ট্রাভেল’ নামে পরিবহন ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি।

এছাড়া চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বিমানবন্দরেও তার প্রোটোকল সার্ভিস ব্যবসা রয়েছে বলে জানা গেছে। বিমানবন্দরকেন্দ্রিক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, “আমরা বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে যদি এমন তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে তার ব্যবসার অনুমোদন নবায়ন করা হবে না।”

অভিযুক্ত খান মোহাম্মদ ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন