রোববার ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪৬, ২৭ জুন ২০২৬

৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি হস্তান্তর করলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাই ও স্ত্রী

৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি হস্তান্তর করলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাই ও স্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক কিংবা গ্রসভেনর স্কয়ার- যেখানে এক একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনা সাধারণ মানুষের কাছে তো বটেই, বড় বড় ধনকুবেরদের জন্যও স্বপ্নের মতো। অথচ সেই লন্ডনের বুকেই প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের তিনটি বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ গড়ে তুলেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী এবং তাঁর স্ত্রী ইমরানা জামান চৌধুরী।

কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর পরই হঠাৎ করেই শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত লুকোচুরি খেলা! রাতারাতি নাম বদলে যাচ্ছে কোম্পানির, পদত্যাগ করছেন মালিকরা, আর হস্তান্তর হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি পাউন্ডের সম্পদ!

নথিপত্র বলছে, ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট লন্ডনে নিবন্ধিত হয় আনিসুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘রনি ৪২ লিমিটেড’। কিন্তু গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর এই কোম্পানিতে ঘটে এক নাটকীয় পরিবর্তন। এক দিনেই আনিসুজ্জামান চৌধুরী কোম্পানির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। আর ঠিক সেই দিনই আজারবাইজানের নাগরিক নাসিব পিরিয়েভ নামক এক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে এর একক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। এরপরই কোম্পানিটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘পিএনএন ইউকে প্রোপার্টিজ লিমিটেড’। তবে নাম বদলালেও চতুরতার সাথে কোম্পানির মূল নিবন্ধন নম্বর অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এই ‘রনি ৪২ লিমিটেড’ (বর্তমান নাম পিএনএন ইউকে প্রোপার্টিজ) কোম্পানির আড়ালেই লুকিয়ে আছে লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক এলাকার পার্ক ক্রিসেন্টের দুটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট। এর মধ্যে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ৯১ লাখ পাউন্ডে (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা) কেনা হয়েছিল। অন্যটির ক্রয়মূল্যের তথ্য নথিতে গোপন রাখা হয়েছে। বর্তমানে এই দুটি অ্যাপার্টমেন্টের সম্মিলিত বাজারমূল্য ২ কোটি পাউন্ড বা প্রায় ৩৩০ কোটি টাকারও বেশি! চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই সম্পদ দুটি বর্তমানে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডিভিএস ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা আছে।

স্বামীর পাশাপাশি সম্পদের এই হাতবদল প্রক্রিয়ায় সমান তালে অংশ নিয়েছেন আনিসুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী ইমরানা জামান চৌধুরীও। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ইমরানা জামান তাঁর সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ‘জিএস এসপিভি ওয়ান লিমিটেড’-এর সব শেয়ার ছেড়ে দিয়ে পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। কোম্পানির মোট ১ হাজার শেয়ারের মধ্যে ৫০ শতাংশ (৫০০ শেয়ার) ছিল ইমরানার নামে। তিনি তাঁর পুরো অংশ নাদিয়া মমিন ইমাম নামে অপর অংশীদারের কাছে হস্তান্তর করায় বর্তমানে নাদিয়াই এই কোম্পানির একক নিয়ন্ত্রক।

এই কোম্পানির অধীনে লন্ডনের গ্রসভেনর স্কয়ারের পাশে গিলবার্ট স্ট্রিটে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ২০২২ সালের ১৫ জুলাই ৯৫ লাখ পাউন্ড (প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা) দিয়ে এই অ্যাপার্টমেন্টটি কেনা হয়েছিল, যা এই কোম্পানির মূল সম্পদ।

লন্ডনে এই দম্পতির সম্পদের সাম্রাজ্য এখানেই শেষ নয়। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে লন্ডনের অভিজাত এজোয়ার রোডের কাছে আনিসুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরও একটি বিলাসবহুল আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান পাওয়া যায়। উত্তর লন্ডনের নিউক্যাসল প্লেসে ‘ওয়েস্টমার্ক টাওয়ার’-এর এই অ্যাপার্টমেন্টটির মূল্য ১৬ লাখ ৬ হাজার ৪৫০ ব্রিটিশ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার সমান।

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই কেন তড়িঘড়ি করে আজারবাইজানের নাগরিক কিংবা অন্য ব্যক্তির হাতে এই ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ তুলে দেওয়া হলো? এটি কি শুধুই সাধারণ ব্যবসা, নাকি ইন্টারপোল ও দুদকের চোখ ফাঁকি দিয়ে সম্পদ বাঁচানোর এক আন্তর্জাতিক চাল? প্রশ্ন মানুষের।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়