বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৩৮, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে কাটা পড়তে পারে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ

আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে কাটা পড়তে পারে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ
ছবি: সংগৃহীত

চলতি করবর্ষে এখন পর্যন্ত ৩১ লাখ করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অথচ দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন ১ কোটি ১৫ লাখের বেশি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০২৫–২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন বা বিবরণী দাখিলের সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে করদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেটের মতো জরুরি পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যেতে পারে। আয়কর আইন অনুযায়ী কর কর্মকর্তাদের এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইন ভঙ্গ হলে সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তা যেকোনো পরিষেবার সংযোগ কেটে দিতে পারবেন।

শুধু তাই নয়, রিটার্ন দাখিল না করার কারণে বিয়ে ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানও আটকে যেতে পারে। এনবিআরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন হল বা সমজাতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান, করপোরেট প্রোগ্রাম, ওয়ার্কশপ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম কিংবা প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য ভাড়া বা সেবা নিতে হলে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এদিকে আয় যা-ই হোক না কেন, পেশা ও কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে ৪৫ শ্রেণির টিআইএনধারীর জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে এনবিআর। ফলে নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতারা রিটার্ন না দিলে সরাসরি আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।

আইনে জরিমানার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। 

আয়কর আইনের ২৬৬ ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া রিটার্ন দাখিল না করলে করদাতার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ১০ শতাংশ জরিমানা করা যাবে, যা ন্যূনতম এক হাজার টাকার কম হবে না। পাশাপাশি রিটার্ন দাখিলের ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনার প্রতিদিন ৫০ টাকা করে জরিমানা আরোপ করতে পারবেন।

তবে এখানে দুটি শর্ত রয়েছে। যাদের আগে কখনো কর নির্ধারণ করা হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ হাজার টাকা। আর যাদের আগে কর নির্ধারণ করা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর প্রদেয় করের ৫০ শতাংশ অথবা এক হাজার টাকার মধ্যে যা বেশি, সেটিই জরিমানা হিসেবে ধার্য করা হবে।

এ ছাড়া আয়কর আইনের ১৭৪ ধারায় কর অব্যাহতির ক্ষেত্র সংকুচিত করার বিধান রয়েছে। এর ফলে করদাতারা বিভিন্ন বিনিয়োগের বিপরীতে যে কর অব্যাহতি পাওয়ার কথা ছিল, তা শাস্তিস্বরূপ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি জরিমানার বাইরেও করদাতাকে মাসিক ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হতে পারে।

এনবিআর জানিয়েছে, চলতি করবর্ষে সাধারণ করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী ব্যক্তি, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই বিধান কিছুটা শিথিল রাখা হয়েছে। চাইলে তারাও ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

করদাতার পক্ষ থেকে তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন বলেও জানিয়েছে এনবিআর। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক না হলেও পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে বিদেশে বসেই ই-রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, সময়মতো রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমে করদাতারা যেমন আইনি ঝুঁকি এড়াতে পারবেন, তেমনি জরিমানা ও অতিরিক্ত করের বোঝাও কমবে।