শনিবার ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৫৫, ৯ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববাজারে এক লাফে তেলের দাম বাড়ল ৪ শতাংশ

বিশ্ববাজারে এক লাফে তেলের দাম বাড়ল ৪ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের বিস্তার এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে দরপতন ঘটেছে। জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বক্তব্যের পর তেলের দাম কিছুটা কমে আসে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে না। তার এই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কাটাতে পারেনি।

এদিকে, বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় ০.৫ শতাংশ কমেছে। একই দিনে ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারেও দরপতন দেখা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে তীব্রতর সংঘাত। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে হুথি বিদ্রোহীদের এক সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছেন।

এই সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতেও পড়ছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে গত এক মাসে তেল ও গ্যাস পরিবহন বেড়েছে। কয়েক মাস ধরে ইরানের অবরোধের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। তবে মার্কিন বাহিনীর দিকনির্দেশনা ও নিরাপত্তা সহায়তা পাওয়ায় কিছু জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আবারও এই নৌপথ ব্যবহার করার ঝুঁকি নিচ্ছে।

তবে গত এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করছে।

অন্যদিকে, হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত বাড়ায় লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি রপ্তানিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের তেল পরিবহনের বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি বাজারবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হোর্হে লিওন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম কিছুটা কমার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। লোহিত সাগর অঞ্চলের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লিওনের মতে, ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিও তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করবে না—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার এবং হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও শেয়ারবাজারের গতিপ্রকৃতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

জনপ্রিয়