সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

শেকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২:০৯, ২৬ জুলাই ২০২৬

শেকৃবির নবীনবরণে মঞ্চে প্রতিবাদ, বেরিয়ে গেলেন শিবির ও বৈষম্য বিরোধী নেতারা

শেকৃবির নবীনবরণে মঞ্চে প্রতিবাদ, বেরিয়ে গেলেন শিবির ও বৈষম্য বিরোধী নেতারা
ছবি: সংগৃহীত

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন (নবীনবরণ) অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ এবং মঞ্চে তাদের উপস্থিতি তবে বৈষম্য বিরোধী ও শিবির নেতাদের সুযোগ না দেয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা মঞ্চে উঠে আপত্তি জানান। পরে তারা স্লোগান দিতে দিতে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় অডিটোরিয়ামে কিছু সময়ের জন্য হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন। এছাড়া সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মিজ সানজিদা ইসলাম, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশারসহ, শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারী, নবীন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি কৃষিবিদ আহমেদুল কবির তাপস, সহ-সভাপতি কৃষিবিদ আব্দুস সামাদ এবং সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ বিএম আলমগীর কবির বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে মঞ্চে অতিথিদের সারিতে আসন গ্রহন করেন৷ 

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা মঞ্চে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্রপরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালকের কাছে আপত্তি জানান। পরে তারা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও কথা বলেন।

প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বজনীন একটি অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র একটি ছাত্রসংগঠনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে অন্য ছাত্রসংগঠনগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছে। অনুষ্ঠান বর্জনের সময় তারা প্রশ্ন তোলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজন নাকি কোনো দলীয় কর্মসূচি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, “নবীনবরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর অনুষ্ঠান। অথচ একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গঠনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা।”

ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান বলেন, “সব ছাত্রসংগঠনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও শুধুমাত্র ছাত্রদলের নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মঞ্চে অতিথিদের আসনে বসানো হয়েছে। আমরা এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ প্রত্যাখ্যান করেছি। এটি শুধু বৈষম্য নয়, জুলাইয়ের চেতনায় যে বৈষম্য বিলোপের ওয়াদা ছিলো তা অস্বীকার করার শামিল।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, “যদি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে তা সব ছাত্রসংগঠনের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করা উচিত। কেবল একটি সংগঠনকে সুযোগ দেওয়া দৃশ্যত বৈষম্যমূলক। এই বৈষম্যের প্রতিবাদেই আমরা অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।”

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী বলেন, “অনুষ্ঠানে অতিথির সংখ্যা বেশি থাকায় সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সব ছাত্রসংগঠনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, “সবাইকে কথা বলার সুযোগ দিতে পারলে ভালো হতো। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে আমরা তা করতে পারিনি। ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের জন্য গঠিত কমিটি আলোচনা করেই বক্তাদের নির্বাচন করেছে।”

প্রতিবাদকারীরা পরে স্লোগান দিতে দিতে অডিটোরিয়াম ত্যাগ করলে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য মুখোমুখি অবস্থান ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়