বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:৫১, ৩০ জুলাই ২০২৬

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্তির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সংগঠনের নেতারা ঘটনাটিকে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির ফল বলে দাবি করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ছাত্রদলের একটি কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযুক্ত এক কর্মীকে অন্তর্ভুক্তির বিষয় নিয়ে সিনিয়র ও জুনিয়র নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মীমাংসার উদ্দেশ্যে ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তা দফায় দফায় সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় প্রথম দফায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজালাল জনি আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, “সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারী রিজওয়ানুল করিম রাব্বী, যিনি পূর্বে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কৃত, তিনি সদস্য সচিবের উপস্থিতিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।”

তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার সকালে অগ্নিবীণা হলের ডাইনিংয়ে তিন বছরের জন্য বহিষ্কৃত ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী রিজওয়ানুল করিম রাব্বী হামলার শিকার হন। পরে তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিব বলেন, “এটি দুই পক্ষের সংঘর্ষ নয়। সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে একটি ছোট বিষয়কে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। আমি ও সদস্য সচিব ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বিষয়টি সমাধান করেছি।”

ছাত্রদলে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে এ ধরনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, “ঘটনাটি মূলত সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝির ফল। পরবর্তীতে বিষয়টিকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।”

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। প্রশাসন এবং ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়