ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ডিআইইউতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৩০ থেকে ৪০ জন সাধারণ শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তারা ‘বিচার, বিচার, বিচার চাই’, ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ডিআইইউর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান, মো. নাজমুছ ছাকিব ও মো. শোয়াইব হোসাইন।
মেহেদী হাসান বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক স্লোগান দিতে আসিনি। আমরা এসেছি একটি প্রশ্নের উত্তর চাইতে—ওসমান হাদির হত্যার বিচার কোথায়? তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও হত্যার বিচার না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি প্রতিশোধ নয়; তারা সুষ্ঠু তদন্ত, সত্য প্রকাশ ও ন্যায়বিচার চান।
নাজমুছ ছাকিব বলেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়। দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর মানববন্ধন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
শোয়াইব হোসাইন বলেন, শুধু ওসমান হাদি নয়, সব শহীদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে জানান, বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতি শুক্রবার মানববন্ধন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা। তবে কর্মসূচির জন্য কোনো একক সমন্বয়ক বা মুখপাত্র নির্ধারণ করা হয়নি।
শরীফ ওসমান বিন হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ছিলেন। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাদি হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে মামলার বাদী অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করলে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। সর্বশেষ ১৫ জুলাই আদালত অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২০ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেন।



























