শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:০১, ২১ আগস্ট ২০২৬

অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ, কুবি শিক্ষার্থীকে মারধর-হেনস্তার অভিযোগ

অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ, কুবি শিক্ষার্থীকে মারধর-হেনস্তার অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়াকে ক্যাশআউটের সময় নির্ধারিত চার্জের বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় মব করে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাকে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে দোকানে আটকে রাখারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কোটবাড়ি টিটিসি সংলগ্ন একটি দোকানে ক্যাশআউট করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ক্যাশআউটের নির্ধারিত চার্জের বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন দোকানদার। এর প্রতিবাদ করলে দোকানদার তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন এবং তাকে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে দোকানে আটকে রাখার চেষ্টা করেন। এ সময় পাশের কয়েকটি দোকানের ৩-৪ দোকানদারও তাকে লাথিসহ মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে মূল দোকানদার তার বড় ভাইকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। তিনি ঘটনাস্থলে এসে নাঈমকে পুনরায় মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে শরিফুল ইসলাম (৪৫), তারিকুল ইসলাম (৩৫) ও মো. মোশারফ (৪০)-এর নাম জানা গেছে। শরিফুল ইসলাম ও তারিকুল ইসলাম সদর দক্ষিণ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের এবং মো. মোশারফ সদর দক্ষিণ উপজেলার  দক্ষিণ বড়রাম এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযুক্তদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। সেখানে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অপরাধে জড়িত না হওয়ার মর্মে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাঈম ভুঁইয়া বলেন, 'আমি ওই দোকানে গিয়ে ৩০০ টাকা ক্যাশ আউট করি। ক্যাশ আউটের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হয় না। কিন্তু দোকানদার আমার কাছে অতিরিক্ত ১০ টাকা চার্জ দাবি করেন। আমি এর প্রতিবাদ করায় দোকানদার আমাকে চাঁদাবাজ বলে ট্যাগ দিয়ে আমার ওপর হামলা করেন। পরে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।'

বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর মো. আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, 'কোটবাড়ি টিটিসির সামনে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সেখানকার দোকানদারদের অপ্রীতিকর ঘটনার পর অভিযুক্তদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রশাসনের উপস্থিতিতে, সাংবাদিক ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
মুচলেকায় তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনা আর ঘটাবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থী তার ন্যায্য দাবি নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে কোনো ধরনের হয়রানি বা হেনস্তা না করারও প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

তিনি আরও বলেন, 'এছাড়া নির্ধারিত বা ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি দাম কোনো ক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া হবে না এবং কোনো কাস্টমারকে হয়রানি করা হবে না বলেও অঙ্গীকার করা হয়। টিটিসির সামনে দোকানদারদের মধ্যে থাকা কথিত সিন্ডিকেটের সঙ্গে ভবিষ্যতে যুক্ত না থাকার এবং অন্য ব্যবসায়ীদেরও এ ধরনের সিন্ডিকেটের বাইরে রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন অভিযুক্তরা।'

জনপ্রিয়