বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ১৩ আগস্ট ২০২৬

৭ লাখ ৫৬ হাজার কিশোরের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ!

৭ লাখ ৫৬ হাজার কিশোরের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ!
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সি ব্যবহারকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ৭ লাখ ৫৬ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে মেটা। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এসব অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে ইনস্টাগ্রামের ৪ লাখ ৬২ হাজার এবং ফেসবুকের ২ লাখ ৯৪ হাজার অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা গত ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া এ ধরনের আইন চালু করে।

আইন অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সি অস্ট্রেলীয়দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা ঠেকাতে প্ল্যাটফর্মগুলোর ‘যুক্তিসংগত পদক্ষেপ’ নেওয়া বাধ্যতামূলক।

বেশির ভাগ অ্যাকাউন্ট বন্ধ ডিসেম্বরেই

মেটার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অ্যাকাউন্ট বন্ধের সবচেয়ে বড় অংশ হয়েছে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার প্রথম মাসে।

ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এক মাসে ৩ লাখ ৩১ হাজার ইনস্টাগ্রাম এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তী মাসগুলোতে আরও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়। জুন পর্যন্ত মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫৬ হাজারে।

মেটা জানিয়েছে, যেসব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে, সেগুলো ১৬ বছরের কম বয়সি অস্ট্রেলীয়দের বলে প্রতিষ্ঠানটি সন্দেহ করেছে।

আইন নিয়ে আপত্তি থাকলেও মানছে মেটা

মেটা শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার এই আইনের বিরোধিতা করে আসছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আইনটির সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার আইন মেনে চলতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কোম্পানিটি বয়স শনাক্ত করতে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এর মধ্যে ব্যবহারকারীর প্রোফাইলের তথ্য বিশ্লেষণসহ বয়স শনাক্তের বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। বয়সের সীমা পূরণ না করলে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

আইন কতটা কার্যকর, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে

মেটা এত বিপুলসংখ্যক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলেও অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি হিসাব ও একাধিক স্বাধীন গবেষণায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার প্রথম তিন মাসেও ১৬ বছরের কম বয়সি ১০ জনের মধ্যে ৮ জনের বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ কারণে আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা নিয়ে আরো কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে। মেটাসহ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। আগামী শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টারি তদন্তে মেটা, টিকটক, স্ন্যাপ ও গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য শোনার কথা রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই বয়সসীমার আওতায় থাকা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে দেশটিতে ৪৭ লাখের বেশি ১৬ বছরের কম বয়সি অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

তবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ছাড়া অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোর কেউ মেটার মতো একই সময়সীমা ধরে নিজেদের অ্যাকাউন্ট বন্ধের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করেনি।

সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার আইনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোরদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের একটি পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। মেটার ৭ লাখ ৫৬ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধের হিসাব দেখাচ্ছে, আইনটি বাস্তবায়নে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলেও ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

জনপ্রিয়