মঙ্গলবার ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৪৭, ৫ জানুয়ারি ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন চালিয়ে যেভাবে পুরোনো রূপে ফিরল যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন চালিয়ে যেভাবে পুরোনো রূপে ফিরল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কথিত গ্রেফতারের খবরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে—যুক্তরাষ্ট্র অতীতে কোন কোন রাষ্ট্রপ্রধানকে সরাসরি আটক করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক ঘোষণায় জানান, নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে একটি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের ভেনেজুয়েলা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ইতিহাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র খুব কম ক্ষেত্রেই কোনো ক্ষমতাসীন বা সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে সরাসরি গ্রেফতার করেছে। তবে এসব ঘটনার প্রতিটিই সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।


১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র পানামায় সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে দেশটির সামরিক শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। যুক্তরাষ্ট্র ওই অভিযানের পক্ষে যুক্তি হিসেবে পানামায় বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা, দুর্নীতি, অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে ধরে।

এর আগেই, ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে নরিয়েগার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা করা হয়। অভিযানের মাধ্যমে তাকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয় এবং সেখানেই তার বিচার হয়।

নরিয়েগা ২০১০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কারাবন্দি ছিলেন। পরে তাকে ফ্রান্সে এবং সেখান থেকে পুনরায় পানামায় পাঠানো হয়। ২০১৭ সালে পানামার একটি কারাগারে তার মৃত্যু হয়।

২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। এর নয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে সামরিক আগ্রাসন শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্র তখন দাবি করেছিল, ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে এবং সাদ্দাম সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করছেন। পরে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়।

গ্রেফতারের সময় সাদ্দাম নিজ শহর তিকরিতের কাছে একটি গর্তে লুকিয়ে ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে ইরাকের আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজকে রাজধানী তেগুসিগালপায় নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে তাকে আটক করা হয়।

পরবর্তী সময়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয় এবং দুর্নীতি ও মাদক পাচারের অভিযোগে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তবে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দেন। এর কিছুদিন পরই হন্ডুরাসের প্রধান কৌঁসুলি তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন, যা দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি অস্থিরতা তৈরি করে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়