মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার উদ্যোগ
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, চলতি বছরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবেন। এটি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কুয়ালালামপুর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে আনোয়ার ক্ষমতা দীর্ঘদিন আঁকড়ে রাখার মানসিকতার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, সবার জন্যই একটি মেয়াদসীমা থাকা উচিত—এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম থাকতে পারে না।
নতুন বছর উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ ঘোষণায় আনোয়ার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করতে আমরা সংসদে একটি বিল উত্থাপন করব। এই মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর অথবা টানা দুই মেয়াদ।’
মেয়াদ শেষে দায়িত্ব পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়াই উত্তম বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদসীমা নেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ প্রথম দফায় টানা ২২ বছর—২০০৩ সাল পর্যন্ত—ক্ষমতায় ছিলেন। পরবর্তীতে অবসর ভেঙে তিনি একটি ভিন্নধর্মী বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সেই জোট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়।
ওই বছর ৯২ বছর বয়সে পুনরায় শপথ নিয়ে মাহাথির মোহাম্মদ বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
তবে, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা সংক্রান্ত বিলটি ঠিক কবে সংসদে তোলা হবে—সে বিষয়ে আনোয়ার নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। উল্লেখ্য, চলতি মাসেই সংসদের এ বছরের প্রথম অধিবেশন বসার কথা রয়েছে।
আনোয়ারের নেতৃত্বাধীন জোট পাকাতান হারাপান (অ্যালায়েন্স অব হোপ) ২০২২ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই দফায় সীমিত রাখার অঙ্গীকার করেছিল।
এ ছাড়া আনোয়ার জানান, সরকার শিগগিরই সংসদে তথ্য অধিকার আইন উত্থাপন করবে। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাইকে জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে এবং প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে—এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম থাকবে না।
উল্লেখ্য, গত মাসে মালয়েশিয়ার হাইকোর্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে আরও ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। এই অতিরিক্ত সাজা কার্যকর হবে তার বর্তমান ছয় বছরের কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পর। ৭২ বছর বয়সী নাজিব বর্তমানে ১এমডিবি কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত একটি মামলায় কারাদণ্ড ভোগ করছেন।



























