ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা ট্রাম্পের
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর দাবি করে তিনি বলেছেন, “ইরানের সঙ্গে আমরা যুদ্ধ শেষ করেছি।”
সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশেষ টেলি-র্যালিতে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি জানি না আপনারা এখনো খবরটি শুনেছেন কি না, তবে আজ আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়েছি। তেহরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা নিজেদের হেফাজতে রাখবে না বলে সম্মত হয়েছে। আর এটিই ছিল আমাদের প্রধান ও মূল শর্ত।”
র্যালিতে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চমৎকার চুক্তি করেছি। সেখানে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। খুব শিগগিরই আমাদের সেনারা ঘরে ফিরতে শুরু করবে। আলোচনার প্রায় সবকিছুই চূড়ান্ত। আমরা যা চেয়েছিলাম, তার সবই পেয়েছি।”
অথচ দিনের শুরুতেও ইরানের বিরুদ্ধে আরও তীব্র ও কঠোর বিমান হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে পরবর্তীতে তিনি জানান, তেহরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অপ্রত্যাশিত অগ্রগতি হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত নতুন বিমান হামলাগুলো বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষদিকে ইউরোপের কোনো একটি দেশে এটি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা নৌ অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে ইরানের ভিন্ন সুর
ট্রাম্পের এমন আশাবাদী ও একতরফা বক্তব্যের বিপরীতে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গেছে তেহরানের কণ্ঠে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত দাবি’ উত্থাপনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, "আলোচনা চলাকালেই ওয়াশিংটন একের পর এক নতুন নতুন শর্ত চাপানোর চেষ্টা করছে।"
মধ্যস্থতায় কাতার, তেলের বাজারে বড় স্বস্তি
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সার্বিক আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এই সংকট নিরসনে ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার সরকারের ইতিবাচক ও সক্রিয় ভূমিকার কথা স্বীকার করেছে।
এদিকে ইরানের ওপর মার্কিন হামলা স্থগিতের এবং যুদ্ধ শেষের এই আকস্মিক ঘোষণা আসার পরপরই বিশ্ববাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তেলের বাজারে স্বস্তি ফেরার পাশাপাশি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে দিন শেষ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারও।



























