ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্পে নিহত ৩৮৯৯, ক্ষতি ৬.৭ বিলিয়ন ডলার
গত ২৪শে জুন ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩,৮৯৯ জনে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস)-এর তথ্যমতে, ওই দিন মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটিকে কাঁপিয়ে দেয়। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে এবং চলমান অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার জাতীয় সংসদের (এএন) সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির সর্বশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, নতুন করে ৮৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ায় মোট নিহতের সংখ্যা ৩,৮৯৯-এ পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৬,৭৪০ জন।
দুর্যোগ মোকাবেলায় কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় ইতোমধ্যে ৮৬,৭৯৪টি পরিবারের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং ৮৯টি অস্থায়ী তাঁবু শিবিরে ১৬,৮৯২টি গৃহহীন পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কারাকাসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো মানবিক সহায়তা সামগ্রী ইতোমধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি ভেনিজুয়েলান নাগরিক গ্রহণ করেছেন। মার্কিন কৃষি উপমন্ত্রী লুক লিন্ডবার্গ এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা রায়ান শ্রামের মাধ্যমে পাঠানো এসব সহায়তা 'গ্লোবাল এমপাওয়ারমেন্ট মিশন' (জিইএম)-এর মাধ্যমে অভাবগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে, ভূমিকম্প পরবর্তী স্বাস্থ্য সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (PAHO)। সংস্থাটি জানিয়েছে, স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত প্রচেষ্টাগুলো বর্তমানে একটি সংকটপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। জরুরি প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ২৪ মিলিয়ন ডলার তহবিলের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার সক্রিয় করা হয়েছে। সংস্থাটির পরিচালক জার্বাস বারবোসা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের ভয়াবহ দুর্যোগের পর সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলো হলো স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়া, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং টিকাদান কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হওয়া।
এই ভূমিকম্প ভেনিজুয়েলার অর্থনীতিতেও এক বিশাল ধাক্কা দিয়েছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট প্রত্যক্ষ ভৌত অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দেশটিতে এখনও জোরদার উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



























