সোমবার ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৬, ১২ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের

হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, একটি জাহাজ অনুমোদিত নৌপথ থেকে সরে যাওয়া এবং নির্দেশনা অমান্য করায় সেটির ওপর হামলা চালানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট জাহাজটি তার ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে নির্ধারিত রুট ছেড়ে অন্য পথে চলার চেষ্টা করেছিল। একাধিকবার সতর্ক করার পর নৌ-ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে জাহাজটিকে থামানো হয় বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। একই সঙ্গে তারা ঘোষণা দেয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীর নৌ চলাচল বন্ধ থাকবে।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, আইআরজিসি সাইপ্রাসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি-তে প্রকাশ্যে হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহে তৃতীয় দফা সামরিক হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকমের তথ্যমতে, হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এটি আর যাত্রা চালিয়ে যেতে সক্ষম নয়। এছাড়া একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সামরিক কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে যে জাহাজের নাবিকরা জাহাজ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন এবং বর্তমানে একটি লাইফবোটে অবস্থান করছেন।

ঘটনার পর এক বিবৃতিতে সেন্টকম অভিযোগ করে, বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলার পরও ইরান সমঝোতা স্মারক মেনে চলার সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু তারা আবারও তা লঙ্ঘন করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ইরান একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তাদের এর মূল্য দিতে হবে।”

অন্যদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।

এর আগে চলতি সপ্তাহে ওমানের জলসীমার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশকৃত নৌপথ ব্যবহার করার সময় তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। ইরান দাবি করে, তাদের নির্ধারিত নৌপথই একমাত্র নিরাপদ রুট।

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হন। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

সূত্র: বিবিসি

জনপ্রিয়