জবিতে বাসের ওপর উপড়ে পড়ল শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া
টানা বর্ষণ ও দমকা হাওয়ার মধ্যে পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বহনকারী একটি বাসের ওপর উপড়ে পড়েছে বিশাল একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ। এতে বাসটির মাঝামাঝি অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, বাসে কোনো যাত্রী না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হয়নি।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি মিরপুর রুটে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আনা-নেয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। সকালে নির্ধারিত রুট থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্যাম্পাসে পৌঁছে দিয়ে চালক বাসটি শহীদ মিনারের পাশে পার্কিং করে রাখেন। কিছুক্ষণ পরই পাশের পুরোনো কৃষ্ণচূড়া গাছটি হঠাৎ উপড়ে বাসের ওপর আছড়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঘটনার সময় বাসের ভেতরে কেউ ছিলেন না। আশপাশেও তেমন কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। তবে গাছের ভারী ডালপালার আঘাতে বাসটির মাঝের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।’
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, ‘শনিবার মধ্যরাত থেকে রাজধানীতে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। অতিবৃষ্টির কারণে মাটি আলগা হয়ে গাছটির শিকড় দুর্বল হয়ে পড়ে। গাছটি অনেক পুরোনো হওয়ায় সেটি উপড়ে বাসের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে বাসটির প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। বাসটি দ্রুত উদ্ধার করে মেরামতের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
দুপুর ১২টার দিকে সূত্রাপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে করাত দিয়ে গাছটি কেটে বাসের ওপর থেকে অপসারণের কাজ শুরু করে। পরিবহন দপ্তর জানিয়েছে, গাছ সরানোর পর বাসটি মেরামতের জন্য সার্ভিস সেন্টারে পাঠানো হবে।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহন খন্দকার বলেন, ‘আজ সৌভাগ্যক্রমে কেউ হতাহত হয়নি। কিন্তু ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই ক্যাম্পাসের ঝুঁকিপূর্ণ ও মৃতপ্রায় গাছগুলো দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।’
শিক্ষার্থীদের দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ছাঁটাই বা অপসারণের ব্যবস্থা নেয়া হলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।



























