শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫৩, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য, সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য, সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা
ছবি: সংগৃহীত

নয়াদিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণার বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ঘোষণায় ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা জানানো হবে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে ব্রিকসের এমন অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় ‘ব্রিকস নয়াদিল্লি ঘোষণা’ প্রকাশ করার কথা রয়েছে। ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এবারের সম্মেলন শুরু হচ্ছে শনিবার বেলা আড়াইটায়। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন শেষ হবে রোববার।

এবারের বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতসহ নানা বৈশ্বিক সংকট ও ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগকেই কার্যকর পথ হিসেবে তুলে ধরা হবে যৌথ ঘোষণায়। সব সদস্য দেশকে একই ঘোষণার বিষয়ে একমত করাতে পারাকে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং ব্রিকসের শেরপাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধকে ঘিরে ভারতের ঘনিষ্ঠ দুই মিত্র ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে মতপার্থক্যই এর আগে যৌথ ঘোষণা নিয়ে জটিলতা তৈরি করেছিল। চলতি বছরের মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও দুই দেশের মতবিরোধের কারণে কোনো যৌথ ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে এবার সেই মতপার্থক্য কাটিয়ে সদস্য দেশগুলোকে একই অবস্থানে আনতে সক্ষম হয়েছে ভারত। ফলে বিষয়টিকে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সক্ষমতার একটি বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতের রাজধানীর ভারত মণ্ডপমে একে একে জড়ো হচ্ছেন ব্রিকসের শীর্ষ নেতারা। এতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ সদস্য দেশগুলোর অন্যান্য নেতার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাত বছর পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর। সম্মেলনের ফাঁকে শনিবার সন্ধ্যায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এর আগে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন মোদী। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এটি মোদীর দ্বিতীয় বৈঠক। এতে ভারত-ইরান সম্পর্কের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

পশ্চিম এশিয়ার সংকটের স্থায়ী সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতিকেই এগিয়ে যাওয়ার প্রধান মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আসছে ভারত। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তাকে নয়াদিল্লির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

জনপ্রিয়