শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:২০, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামে আগুন, গ্যালন ছাড়াল ৬ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামে আগুন, গ্যালন ছাড়াল ৬ ডলার
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়েছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ফুয়েল ট্র্যাককারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্সের।

মার্কিন অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অন্যতম প্রধান জ্বালানি ডিজেল। পণ্যবাহী ট্রাক, ট্রেন, জাহাজ, ভারী যন্ত্রপাতি ও কৃষিকাজের আধুনিক সরঞ্জাম পরিচালনায় এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে ডিজেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেশটির বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষক প্যাট দে হান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ডিজেলের রেকর্ড দাম বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবাহিত প্রতিটি পণ্য, প্যাকেজ ও খাদ্যসামগ্রীর পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে। এর প্রভাব পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে ছড়িয়ে পড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র পাঁচ মাসে দেশটিতে ডিজেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

বাজার সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধিই ডিজেলের এই অস্বাভাবিক দাম বাড়ার প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত তীব্র হওয়ার পর অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ১০৭ দশমিক ৬৩ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডাব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছেছে।

আমেরিকান জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ডিজেলের মজুদ গত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং চীনা জ্বালানি রপ্তানিতে কড়াকড়ির ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।

এদিকে সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো ও জ্বালানি খরচ কমাতে মার্কিন প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাব বজায় থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়