নতুন দূতাবাস খুলে ইসরাইলের মিত্র হচ্ছে স্লোভেনিয়া
আল্পস অঞ্চলের দেশ স্লোভেনিয়া জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেজ ইয়ানশার নেতৃত্বে স্লোভেনিয়া ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস শুরু করেছেন।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের আচরণ নিয়ে সম্প্রতি ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হলেও স্লোবেনিয়া এই প্রবণতার বিপরীত পথে হাঁটছে।
এর অংশ হিসেবে ইসরাইল বুধবার লুবলিয়ানায় দেশটির প্রথম দূতাবাস উদ্বোধন করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠাচ্ছে।
লুবলিয়ানা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এটি আগের মধ্য-বামপন্থী সরকারের নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে ওই সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্যতম কঠোর সমালোচক ছিল। তারা ওই অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে।
এ পদক্ষেপ এমন একদিন পর নেওয়া হলো, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইসরাইলের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক নিন্দা বাড়তে থাকায় ইউরোপের সরকারগুলোর নেওয়া সর্বশেষ পদক্ষেপ এটি।
ইয়ানশা চলতি বছরের শুরুতে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে প্রায়ই তার বিরোধ হয়। পশ্চিম তীরের বসতি নিয়ে ইইউর অবস্থানের বিরোধিতা করায় তিনি ইসরাইলের প্রশংসা পেয়েছেন।
ইয়ানশার নেতৃত্বে স্লোভেনিয়া বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিজেদের নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করেছে। ইসরাইলের ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। নেতানিয়াহু ও তার দুই মন্ত্রীর ওপর দেওয়া প্রবেশ নিষেধাজ্ঞাও বাতিল করেছে।
ইসরাইলের শীর্ষ কূটনীতিক গিদিওন সার বুধবার স্লোভেনিয়ায় তার প্রথম সরকারি সফরে দূতাবাসটি উদ্বোধন করবেন। তার মন্ত্রণালয় ইয়ানশাকে ‘ইসরাইলের বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইয়ানশা বলেছেন, তার সরকার উদারপন্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলবের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে ‘শুধু স্লোভেনিয়ার পররাষ্ট্রনীতি স্বাভাবিক করছে।’
দৈনিক দেনেভনিকের কলামিস্ট দারিয়ান কোশির সপ্তাহাহের শেষে এক মন্তব্যে বলেছেন, ইইউতে ইয়ানশা ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ট্রোজান হর্স’ হিসেবে কাজ করছেন। এপ্রিলের নির্বাচনে হেরে যাওয়া হাঙ্গেরির দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের জায়গা তিনি নিয়েছেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট দানিলো তুর্ক এএফপিকে বলেন, স্লোভেনিয়া ‘ইসরাইলি নীতির একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।’
লুবলিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক তুর্ক বলেন, ‘এটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।’



























