মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৪৮, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

দেশে বন্ধ হলো ৮৮ লাখের বেশি সিম

দেশে বন্ধ হলো ৮৮ লাখের বেশি সিম
ছবি: সংগৃহীত

দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার লক্ষ্যে গ্রাহকপ্রতি ১০টির বেশি সিমকার্ড বাতিল করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ সিদ্ধান্তের ফলে সারাদেশে ৮৮ লাখেরও বেশি সিমকার্ড বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় আরও প্রায় এক লাখ সিম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে মোবাইল ফোন ও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে। গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রাহকপ্রতি সিমের সংখ্যা পাঁচটিতে নামিয়ে আনা হলে টেলিযোগাযোগ খাতে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে একজন গ্রাহকের নামে নিবন্ধিত সিমকার্ডের সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গত নভেম্বর থেকে গ্রাহকপ্রতি ১০টির বেশি সিম বন্ধ করা শুরু হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এই সীমা পাঁচটিতে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেয় মন্ত্রণালয়। তবে গ্রাহকদের অসন্তোষ ও আন্দোলনের কারণে তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পাঁচটির সীমা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।

বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের নির্দেশনা ছিল গ্রাহকপ্রতি ১০টি সিমে নামিয়ে আনা। এতে প্রায় ৮৯ লাখ অতিরিক্ত সিম শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ৮৮ লাখের বেশি ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। বাকি প্রায় এক লাখ সিম ভিআইপিসহ বিভিন্ন মামলা চলমান থাকায় সাময়িকভাবে স্থগিত আছে। তবে সেগুলোও দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে সিম সংখ্যা পাঁচটিতে নামিয়ে আনার নির্দেশনা থাকলেও সামনে জাতীয় নির্বাচন এবং ৬ থেকে ১০টি সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় আমরা এখনই তা কার্যকর করছি না। নির্বাচনের পর পাঁচটিতে নামিয়ে আনার কাজ শুরু হবে।”

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু এবং ধারাবাহিকভাবে সিম বন্ধের ফলে গত ছয় মাসে প্রায় ১৮ লাখ মোবাইল গ্রাহক ও ৬২ দশমিক ৬ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক কমেছে।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের মোট গ্রাহকসংখ্যা ছিল ১৯ কোটি ৪২ লাখ। এক বছর পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়ায় ১৮ কোটি ৮৭ লাখে। সর্বশেষ (নভেম্বর ২০২৫) এ সংখ্যা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৭০ লাখে। গত ছয় মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা কমছে।

যদিও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে, তবে কমছে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক। বর্তমানে দেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১১ কোটি ৫২ লাখ। গত জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ১৫ লাখ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ছিল ১২ কোটি ৭৫ লাখের বেশি।

অন্যদিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪৬ লাখে, যা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেট বন্ধ, সরকারি বিধিনিষেধ, মোবাইল ডেটার মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্রডব্যান্ডের সহজলভ্যতা মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার কমার অন্যতম কারণ।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন,
“মোবাইল হ্যান্ডসেট ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কমার পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, সিমকার্ডের সংখ্যা সীমিত করা। দ্বিতীয়ত, ব্রডব্যান্ড ব্যবহারের বৃদ্ধি। সিম কমলে স্বাভাবিকভাবেই মোবাইল ব্যবহার ও মোবাইল ইন্টারনেটের ওপর এর প্রভাব পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “কভিড-১৯ মহামারির সময়ে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়ে গিয়েছিল। প্যানডেমিক শেষে ব্যবহার ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেটি আবার কমে আসছে।”

এ বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, “গ্রাহকপ্রতি সিম সংখ্যা ১০টিতে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার কথা নয়। তবে যদি পাঁচটিতে নামিয়ে আনা হয়, তাহলে বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। এতে রাজস্বসহ টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে।”