বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:০৯, ১১ মার্চ ২০২৬

ভবিষ্যৎ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা হতে হবে প্রযুক্তিনির্ভর: আইজিপি

ভবিষ্যৎ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা হতে হবে প্রযুক্তিনির্ভর: আইজিপি
ছবি: সংগৃহীত

আমাদের ভবিষ্যৎ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা হতে হবে প্রযুক্তি নির্ভর। বিশ্বব্যাপী অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ছাড়া আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

বুধবার সকালে পুলিশ স্টাফ কলেজে অনুষ্ঠিত ‘ঢাকায় নগর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা: চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল ঢাকায় নগর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং টেকসই সমাধান অনুসন্ধান।

আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত নগরায়নের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, নগর অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং মানুষের চলাচল- সব মিলিয়ে সড়ক ব্যবস্থাপনা এখন রাষ্ট্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সকলকে সমন্বিতভাবে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট যখন রাস্তায় দাঁড়ান, তখন তিনি শুধু যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করেন না; তিনি রাষ্ট্রের আইন ও শৃঙ্খলার প্রতিনিধিত্ব করেন। তার আচরণ, পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা সরাসরি পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থাকে প্রভাবিত করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ-এর রেক্টর কাজী মো. ফজলুল করিম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের ভাইস-রেক্টর এস এম আক্তারুজ্জামান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সুফিয়ান আহমেদ।

মূল প্রবন্ধে ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা, যানজটের কারণ, আইন প্রয়োগের বাস্তবতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ও নীতিনির্ধারণভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

কর্মশালার লক্ষ্য ছিল ঢাকা মহানগরে সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বাস্তবমুখী নীতিগত সুপারিশ ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা।

এ লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীরা ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা ও প্রধান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিতকরণ, ট্রাফিক আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা মূল্যায়ন, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাস রুট ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, রিকশাসহ নন-মোটরাইজড পরিবহনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত ব্যবস্থাপনার সমস্যা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, পথচারী নিরাপত্তা ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নগর পরিবহন পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন।

কর্মশালায় বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অ্যাডিশনাল আইজি এ কে এম আওলাদ হোসেন, অ্যাডিশনাল আইজি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং অ্যাডিশনাল আইজি সরদার নূরুল আমিন। তারা ঢাকার নগর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনায় প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন সংস্কার, আইন প্রয়োগের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, কর্মশালার সুপারিশসমূহ ভবিষ্যতে ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং নগর পরিবহন পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।