সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

বাসস

প্রকাশিত: ১৯:৫৬, ১৬ মার্চ ২০২৬

সবার সহযোগিতায় সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি: সিইসি

সবার সহযোগিতায় সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি: সিইসি
ছবি: সংগৃহীত

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সবার সহযোগিতায় আমরা একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি। 

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘আমরা জাতির কাছে যে ওয়াদা করেছিলাম, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই ওয়াদা পূরণ করতে পেরেছি। আমরা আপনাদের সবার সহযোগিতায় একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি।’ 

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, সুন্দর একটা নির্বাচনের পর এই প্রথম আমি আপনাদের সাথে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছি। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতির কাছে যে ওয়াদা করেছিলাম, সেই ওয়াদা পূরণ করতে পেরেছি। তিনি বলেন, আমি এখনো এমন একজন ব্যক্তিকেও পাইনি যিনি বলেছেন যে তিনি নির্বাচনের দিন ভোট দিতে পারেননি। 

কোনোপ্রকার বাধা ছাড়াই ভোটাররা ভোট দিতে পেরেছেন উল্লেখ করে সিইসি বলেন, আমি যখন ভোটকেন্দ্র ভিজিট করেছি তখন ভোটারদের জিজ্ঞাসা করেছি, ভোট দিতে এসে তারা কোনো প্রকার সমস্যার সম্মুখিন হয়েছেন কিনা। জবাবে একজনও আমাকে বলেননি যে তিনি কোনো সমস্যার সম্মুখিন হয়েছেন। এমনকি বয়স্ক মহিলারাও ভোট দিতে এসে কোন বাধাবিপত্তি ফেস করেননি বলে জানিয়েছেন। সবাই বলেছেন তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন।

নির্বাচনে ব্যবহৃত অমোচনীয় কালির মান নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার  বলেন, ‘কালি তো উঠছে না। ভয় হচ্ছে সামনের লোকাল গভর্নমেন্ট (স্থানীয় সরকার) নির্বাচনে এই কালি নিয়ে ভোট দিতে গেলে আবার ধরা খাই কি না!’

তিনি বলেন, আমি নিজেও চেক করে দেখেছি, আমার হাতের কালি এখনো আছে। আমি জানি না স্টিভ লিজ (সরবরাহকারী) কী ম্যাজিক করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই আমরা সেরা মানের কালি দিয়েছি। সাধারণত ভোট দিয়ে ঘষা দিলে কালি চলে যায়, কিন্তু এবারের কালি অবিশ্বাস্য রকম টেকসই।

সিইসি আবারও ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটির ব্যবহারে নিজের আপত্তির কথা জানান। তিনি বলেন, আমরা সবাই বাংলাদেশি। এখানে মাইনরিটি কিসের? আমরা তো এক জাতি। রিলিজিয়াস অর্থে হয়তো বিভাজন করা হয়, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি সবাই সমান এবং সবার সমান অধিকার।

দেশের অর্থনীতি ও জিডিপিতে নারীদের গৃহস্থালি কাজের মূল্যায়ন করা হয় না উল্লেখ করে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নারীদের ঘরের কাজের অবদান যদি আর্থিক মূল্যে (মনিটাইজ) হিসাব করা হতো, তবে বাংলাদেশের জিডিপি বর্তমানের তুলনায় তিনগুণ বেশি হয়ে যেত।

সিইসি বলেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নারী কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। ভোটের পর অনেক অনিয়মের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে, কিন্তু মজার ব্যাপার হলো কোনো নারী প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নারী নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সিইসি জানান, আগে নারী ও পুরুষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখের ব্যবধান ছিল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের ফলে সেই গ্যাপ এখন ১০ লাখে নেমে এসেছে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত দাঁড়িয়ে আছে নারীদের ওপর, তাই তাদের কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। ‘সমতা নিশ্চিত করি নারী পুরুষ মিলে ভবিষ্যৎ গড়ি’-এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। 

এছাড়া ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে, এম, আলী নেওয়াজ, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং, ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ