রোববার ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৫১, ৬ জুন ২০২৬

জনগণকে সম্পৃক্ত করেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

জনগণকে সম্পৃক্ত করেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত বলেছেন, শুধু হাসপাতাল নির্মাণ, সরকারি উদ্যোগ কিংবা চিকিৎসকদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়; জনগণকে সম্পৃক্ত করেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। 

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গুসহ জনস্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। তাই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)-সহ দেশের সব সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার।’

আজ রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল পার্কে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত তিন মাসব্যাপী মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই জাতীয় পর্যায়ের বড় বড় কর্মসূচি সফল হয়েছে। যেমন, হামের টিকাদান কর্মসূচিতে অল্প সময়ে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছিল। একইভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও জনগণের অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নাগরিক যদি ডেঙ্গু প্রতিরোধকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন, প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন, নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন এবং প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনকে সচেতন করেন, তাহলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।’

জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্থ জনগোষ্ঠী ছাড়া উন্নত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। একটি জাতির উন্নয়নের প্রকৃত সুফল তখনই নিশ্চিত হয়, যখন সেই উন্নয়ন মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।’

তিনি জানান, ডিএনসিসির নেতৃত্বে আগামী তিন মাসব্যাপী যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণকে সচেতন করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে।

সোসাইটিভিত্তিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি আবাসিক এলাকা ও সোসাইটিকে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে, যাতে তারা নিজেদের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পারে। তারপরও কেউ যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে, তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে ইমামদের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা হবে, যাতে এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী তিন মাসের একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় মশক নিধনের পাশাপাশি নগরবাসীকে সচেতন করার জন্য ব্যাপক প্রচারণা, ক্যাম্পেইন, সভা-সমাবেশ ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, ‘কোরবানির ঈদে চারটি সোসাইটি এবং নগরবাসীর সহযোগিতায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সফলভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছে। একইভাবে জনগণ ও সোসাইটিগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা পেলে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’

উপস্থিত জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, ‘আজ যারা এখানে উপস্থিত আছেন, তারা যদি নিজেদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দেন, তাহলে সচেতনতার একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে।’

তিনি নগরবাসীকে বৃষ্টির পানি, ফুলের টব, ছাদ, বারান্দা, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। কারণ এসব স্থানেই এডিস মশা বংশ বিস্তার করে।

প্রশাসক আরো জানান, আগামী তিন মাস ডিএনসিসির পক্ষ থেকে বাসা-বাড়িতে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক সভা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর সেবায় ডিএনসিসির কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক থেকে শুরু হয়ে গুলশান-২-এর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, ডিএনসিসি প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, বিভিন্ন সোসাইটির নেতৃবৃন্দ, ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক নগরবাসী অংশগ্রহণ করেন।

সূত্র: বাসস

সর্বশেষ