রামিসা হত্যা মামলা : উচ্চ আদালতেও মৃত্যুদণ্ড বহালের আশা আইনমন্ত্রীর
রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশু রামিসাকে হত্যার অপরাধে আসামি সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো.আসাদুজ্জামান। উচ্চ আদালতে গেলেও এই রায় বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রায় ঘোষণার পর রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আইনের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করে মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এ রকম একটি বেদনাদায়ক ঘটনার বিচার সম্পন্ন করতে পেরেছি। ঘোষিত শাস্তিতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট এবং আশা করি উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে।’
মন্ত্রী জানান, প্রধান বিচারপতির সম্মতিতে শিশু ট্রাইব্যুনালকে আদালতের অবকাশের বাইরে রাখা হয়েছিল। ফলে ২৪ মে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়। গত ১ জুন অভিযোগ গঠন, পরবর্তী দিনগুলোতে সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামির জবানবন্দি ও যুক্তিতর্ক শেষে কার্যত ছয় কার্যদিবসের মধ্যেই রায় ঘোষণা করা হয়েছে; এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।
মো.আসাদুজ্জামান বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার কোনো ধাপে যাতে ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেজন্য আইন অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। আসামিপক্ষ আইনজীবী নিয়োগ না করায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একজন আইনজীবীও নিয়োগ দেওয়া হয়। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এর থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল না।
তিনি বলেন, আমার প্রত্যাশা আগামী তিনমাসের মধ্যে এ বিচারকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব, যদি সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এটাকে প্রাধান্য দিয়ে শুনানি করেন। তাঁরা সেটা করবেন বলে আমি আশাবাদী।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেলের ব্যাপারে তিনি বলেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরেও বিচারকে অন্য খাতে প্রবাহিত করতে, বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে তিনি মামলার রেকর্ডে নেই এমন একজনের নাম বলেছে। বিচার থেকে মানুষের ফোকাস অন্যদিকে ঘোরাতেই সে এ কাজটি করেছে। কিন্ত আমরা আমাদের জায়গায় অটল ছিলাম, যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে দ্রুত এগিয়ে গেছি।
উচ্চ আদালতে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং ডেথ রেফারেন্স মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আরও গুরুত্ব দেবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘শিশু রাজন ও রাকিব হত্যাসহ দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা মামলাগুলোর বিষয়েও আমরা সচেতন। আইনে কতদিনের মধ্যে এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে সেটির উল্লেখ না থাকলেও শিশু আছিয়া ও রামিসার মামলাসহ সব ডেথ রেফারেন্স যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তির জন্য আমরা কাজ করে যাব।’
তিনি বলেন, শুধু কঠোর আইন দিয়ে এ ধরনের অপরাধ সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ নির্মূলে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে (৮) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদ-ের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ (রোববার) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদ-ের পাশাপাশি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ দুই লাখ টাকা অর্থদ-ের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
সূত্র: বাসস



























