শনিবার ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:০০, ২৭ জুন ২০২৬

মাদকবিরোধী কার্যক্রমে প্রশংসিত মেহেদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে পুরস্কার গ্রহণ

মাদকবিরোধী কার্যক্রমে প্রশংসিত মেহেদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে পুরস্কার গ্রহণ
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসে গত এক বছরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) পরিচালিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাদকবিরোধী অভিযানের সফলতার স্বীকৃতিস্বরুপ অধিদপ্তরের চৌকস উপপরিচালক মো.মেহেদী হাসান এবং ঢাকা গোয়েন্দা টিমকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  সালাহউদ্দিন আহমদ পুরস্কৃত করেছেন। 

মাদক নির্মূলে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া কর্মকর্তা মো.মেহেদী হাসান বলেন, এই স্বীকৃতি যেমন গর্বের, তেমনি এটি আমাদের দায়িত্বও আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই অর্জন শুধু আমার একার নয়; এটি আমার টিমের সহকারী পরিচালকসহ সকল সদস্যের  নিরলস পরিশ্রম, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের—বিশেষ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আউটপুট বলেন তিনি। 

তিনি বলেন, গত এক বছরে কয়েকটি আলোচিত মাদকবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—উত্তরা থেকে বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ত  "ল্যাবসহ কিটামিন" মাদকের একটি বড় চালান জব্দ। দেশে নতুন ধরনের মাদক এমডিএমবি শনাক্ত ও জব্দ, বসুন্ধরা এলাকায় ভেজাল মদ তৈরির কারখানা  এবং ওয়ারী এলাকায় বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি কুশ (Kush) মাদক ল্যাবের সন্ধান।

এসব অভিযানের মাধ্যমে আমরা শুধু অপরাধীদের আইনের আওতায় আনিনি; বরং নতুন ধরনের মাদকের বিস্তার সম্পর্কে রাষ্ট্র ও সমাজকে সময়মতো সতর্ক করারও সুযোগ পেয়েছি যোগ করেন তিনি। 

সাহসী ও পরিশ্রমী এই কর্মকর্তা বলেন, তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—শুধু অভিযান, গ্রেপ্তার কিংবা মামলা দিয়ে মাদকের সমস্যা সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়।  এই সংকট মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি সমগ্র সমাজকেও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

পরিবারকে আরও সচেতন হতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে, গণমাধ্যমকে তথ্যভিত্তিক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে এবং সর্বোপরি তরুণদের নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে বলেন তিনি। 

তিনি বলেন, একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আধুনিক প্রযুক্তি, অত্যাধুনিক অনুসন্ধান ও ফরেনসিক যন্ত্রপাতি এবং দক্ষ মানবসম্পদ দিয়ে আরও শক্তিশালী ও সক্ষম করে গড়ে তোলা জরুরি এবং বর্তমান সরকার সে লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। কারণ, প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত মাদকের ধরন ও পাচার কৌশল মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতাই হবে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।

দেশকে রক্ষা করতে হলে মাদক নির্মূল করতে হবে এমন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদকবিরোধী লড়াই কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রাষ্ট্র, সমাজ এবং প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত অংশগ্রহণই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

আজকের এই স্বীকৃতি আমাদের আরও নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশের সেবায় কাজ করে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

জনপ্রিয়