শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৪৬, ৬ আগস্ট ২০২৬

ব্ল্যাংক চেকে হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ

ব্ল্যাংক চেকে হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার অপব্যবহার করে ব্ল্যাংক চেকে ইচ্ছেমতো অঙ্ক বসিয়ে হয়রানিমূলক মামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন খুলনার বাসিন্দা শচীন্দ্র নাথ শীল। এ ধরনের প্রতারণা ও হয়রানি বন্ধে আইন সংশোধন, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন খুলনার বাসিন্দা শচীন্দ্র নাথ শীল।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্কুল শিক্ষক অন্তত তরফদার।

সংবাদ সম্মেলনে শচীন্দ্র নাথ শীল দাবি করেন, তার স্ত্রী জ্যোৎস্না সরকার ২০১৩-১৪ সালে পারিবারিক প্রয়োজনে তার অজান্তে কয়েকজন সহকর্মীর কাছ থেকে সুদে টাকা ধার নেন। পরবর্তীতে উচ্চ সুদের চাপে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার নিতে বাধ্য হন। বিষয়টি জানার পর তিনি ২০১৯ সালে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।

তার অভিযোগ, সর্বমোট ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করার পরও জামাল, আমিনুল ইসলাম, শহিদুল কাদির, লিলি, সুলতানা ইয়াসমিন, বিশোকা রানী কুন্ডু সহ কয়েকজন সুদকারবারির কাছ ব্ল্যাংক চেক থাকায় ইচ্ছেমতো টাকার অংক বসিয়ে ওই কারবারিরা আবারও হয়রানি মামলা করেন। ওই কয়েকজন সুদ ঋণদাতার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি হলেও কিছু ব্যক্তি নিরাপত্তা হিসেবে নেওয়া ব্ল্যাংক চেকের অপব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করেছেন। নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার অপব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ধারার অপব্যবহার রোধে আইন সংশোধন এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবিতে পৃথক মামলা করেছেন। তাছাড়া কোন ব্যবসা ছাড়া ৩০ লাখ টাকা ধার দেওয়া এ সমাজে অসম্ভব। তাছাড়া এসব মামলায় নগদ অর্থ ধার দেওয়ার দাবি করা হলেও অর্থের বৈধ উৎস, আয়কর নথি কিংবা লিখিত চুক্তিপত্র উপস্থাপন করা হয়নি বলে তার দাবি।

শচীন্দ্র নাথ শীল বলেন, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার বর্তমান বিধানকে কাজে লাগিয়ে ব্ল্যাংক চেকে ইচ্ছামতো অর্থের পরিমাণ বসিয়ে মামলা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং প্রকৃত ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় আবেদন করেও কার্যকর প্রতিকার না পেয়ে তিনি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেন বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার অপব্যবহার রোধে আইন সংশোধন, চেক-সংক্রান্ত মামলায় দাবিকৃত অর্থের বৈধ উৎস যাচাইয়ের বিধান এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান শচীন্দ্র নাথ শীল।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়