শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:২৮, ৭ আগস্ট ২০২৬

ঋণগ্রহীতাকে যখন-তখন ফোন করা যাবে না

ঋণগ্রহীতাকে যখন-তখন ফোন করা যাবে না
ছবি: সংগৃহীত

ঋণের কিস্তি বকেয়া থাকলেই গ্রাহককে যখন-তখন ফোন, হুমকি, গালাগাল বা সামাজিকভাবে হেয় করার সুযোগ আর থাকছে না। ঋণ আদায়ে ব্যাংক ও তাদের নিয়োজিত এজেন্টদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)।

নতুন এই নির্দেশনা আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ব্যাংক ও ঋণ আদায়কারী এজেন্টরা কেবল সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ঋণগ্রহীতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে গ্রাহক নিজে সম্মতি দিলে তার সুবিধাজনক সময়ে যোগাযোগ করা যাবে। শোকের পরিবেশ, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা বা বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে কোনো অবস্থাতেই ফোন করা যাবে না।

আরবিআই স্পষ্ট করেছে, ঋণ আদায়ের নামে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালাগাল কিংবা অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। বারবার ফোন করে গ্রাহককে বিরক্ত করাও নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে জনসমক্ষে অপমান করা, পরিবার বা সম্পদের ক্ষতির হুমকি দেওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, ভিডিও বা অডিও প্রকাশ করে ঋণগ্রহীতাকে হেয় করারও সুযোগ থাকবে না।

নীতিমালা অনুযায়ী, ঋণ আদায়কারী এজেন্ট ইচ্ছামতো গ্রাহকের বাসা বা কর্মস্থলে যেতে পারবেন না।

সরাসরি সাক্ষাতের অন্তত এক দিন আগে গ্রাহককে জানাতে হবে এবং প্রথমে গ্রাহকের পছন্দের স্থানেই সাক্ষাতের চেষ্টা করতে হবে। গ্রাহক বারবার নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত না হলে তবেই বাসা বা অফিসে যাওয়া যাবে। এ সময় এজেন্টের কাছে পরিচয়পত্র, অনুমতিপত্র ও প্রয়োজনীয় নোটিশ থাকতে হবে।

আরবিআই আরো বলেছে, ঋণ আদায়সংক্রান্ত প্রতিটি ফোনকলের তথ্য অন্তত ছয় মাস সংরক্ষণ করতে হবে। এতে গ্রাহক অভিযোগ করলে তা যাচাই করা সহজ হবে।

ঋণ আদায়ের দায়িত্ব তৃতীয় পক্ষকে দিলেও তাদের কর্মকাণ্ডের দায় এড়াতে পারবে না ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সংস্থার কার্যক্রম তদারকি এবং নীতিমালা মেনে চলা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানেরই।
নতুন নির্দেশনায় ঋণ আদায়কারী এজেন্টদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এমন কোনো আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া যাবে না, যাতে কর্মী বা এজেন্ট অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে ঋণ আদায়ে উৎসাহিত হন। ব্যাংকও প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো ব্যক্তিগত তথ্য আদায়কারী সংস্থার কাছে দিতে পারবে না।

ঋণে কেনা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপের ক্ষেত্রেও নতুন বিধান দিয়েছে আরবিআই। ঋণের অর্থে কেনা নির্দিষ্ট ডিভাইসটি দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সীমিতভাবে বন্ধ করা গেলেও কিস্তি বকেয়া হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা করা যাবে না। অন্তত ৩০ দিন ঋণ বকেয়া থাকার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। টানা ৬০ দিন বকেয়া থাকলে ডিভাইসটি সম্পূর্ণ লক করা যেতে পারে।

তবে ডিভাইস লক করা হলেও ইনকামিং কল, এসএমএস, জরুরি যোগাযোগ এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় ফিচার সচল রাখতে হবে। ব্যাংক কোনোভাবেই গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ করতে পারবে না। বকেয়া পরিশোধের এক ঘণ্টার মধ্যে ডিভাইস পুনরায় সচল করতে হবে। এর বেশি দেরি হলে প্রতি ঘণ্টার জন্য ২৫০ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ব্যাংককে।

ভারতের আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিপিডিজিরোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অনন্ত শ্রফ বলেছেন, আরবিআইয়ের এই উদ্যোগ ঋণ আদায় ব্যবস্থায় কেবল আংশিক পরিবর্তন নয়, বরং একটি কাঠামোগত সংস্কার। তার মতে, নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে ঋণ আদায়ের প্রতিটি ধাপেই বাস্তবায়িত হওয়া উচিত।

জনপ্রিয়