শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৫৪, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কসমেটিকস-স্কিন ও পার্সোনাল কেয়ার শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

কসমেটিকস-স্কিন ও পার্সোনাল কেয়ার শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

তিন দিনব্যাপী প্রসাধনী, স্কিনকেয়ার ও পারসোনাল কেয়ার শিল্পের প্রদর্শনী ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। 

তিনি বলেন, কয়েক হাজার কোটি টাকার এই খাতকে শুধু আমদানি-নির্ভর বাজার হিসেবে না দেখে উৎপাদন, রপ্তানি ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম সম্ভাবনাময় শিল্পখাত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুড়িলের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬: পাওয়ার্ড বাই রিমার্ক হারলান’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে যে উৎপাদন সক্ষমতা, কমপ্লায়েন্স অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও বৈশ্বিক ক্রেতা-সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে কসমেটিকস খাতেও কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, ফর্মুলেশন, বিশেষায়িত প্যাকেজিং, মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরি ও সার্টিফিকেশন সুবিধা গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে সার্টিফায়েড বোটানিক্যাল ও হারবাল উপাদানের শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করা গেলে এই খাত শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করবে না, বরং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের নতুন রপ্তানি সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দেবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের দৃষ্টিতে এই শিল্পের পরবর্তী ধাপ হলো ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ থেকে ‘ফরমুলেটেড, ডেভেলপড অ্যান্ড ব্র্যান্ডেড ইন বাংলাদেশ’-এর দিকে এগিয়ে যাওয়া। এ জন্য বিনিয়োগ সহজীকরণ, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষা ও সার্টিফিকেশন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, টেকসই প্যাকেজিং এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, নিরাপদ কাঁচামাল এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একটি সমন্বিত শিল্পভিত্তি গড়ে তুলতে পারলে কসমেটিকস ও পারসোনাল কেয়ার খাত আগামী দিনে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কূটনীতির নতুন শক্তিশালী ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ছাড়াও কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, চীন, জাপান ও ভারতসহ ১৬ দেশের প্রসাধনী ব্র্যান্ড, প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী, খুচরা বিক্রেতা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে রয়েছে শতাধিক পণ্যের স্টল, লাইভ ডেমো, বিউটি কনসালটেশন, স্কিনকেয়ার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ।

বর্তমানে দেশে বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তারাও কসমেটিকস, টয়লেট্রিজ ও পারসোনাল কেয়ার খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। স্থানীয় ব্র্যান্ডের উপস্থিতি বাড়ার পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্য, গুণগত মান, প্যাকেজিং ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনে বিনিয়োগও বাড়ছে। মূল্যসাশ্রয়ী পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি বাজারকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইন্ডেন্টিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএএ) সভাপতি বাহারুল মনসুর বলেন, কসমেটিকস ও পারসোনাল কেয়ার খাতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি প্রতিবছরই বাড়ছে। এই খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বিআইএএ। কসমেটিকা ঢাকা থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ আসবে এবং খাতটি আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সেনসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সিনিয়র পারফিউমার ফ্রাংক কেন্টন বলেন, তিনি ৪০ বছর ধরে বাংলাদেশে কাজ করছেন। তাঁর মতে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় বাজার বাংলাদেশ। তবে এ বাজারে টিকে থাকতে হলে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মানসম্পন্ন পণ্য তৈরি করতে হবে।

সাচিরোম লিমিটেডের পরিচালক ধ্রুব অরোরা বলেন, দেশে মানসম্পন্ন কসমেটিকস পণ্য পৌঁছে দেওয়া এবং গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কসমেটিকা ঢাকা একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

স্কোয়াড মাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডের সিইও এস এম ফয়সাল মুনিম বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত কসমেটিকা ঢাকা থেকে তাঁদের প্রত্যাশা, এই খাতে দেশি-বিদেশি আরও বেশি বিনিয়োগ আসবে। একই সঙ্গে প্রদর্শনীটি কসমেটিকস খাতের একটি কার্যকর ‘ক্রস-ম্যাচিং প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্কোয়াড মাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানজীন সুলতানা প্রিয়াংকা, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ইনজিনিয়াস রিসোর্সের পরিচালক ফখরুল আলম, রিমার্ক হারলানের পরিচালক সুকান্ত দাস, এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডের নির্বাহী পরিচালক, আলিফ আতরের সিওও ইব্রাহিম খলিল ও সিওও কামরুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট খাতের অনেকে।

আয়োজকদের আশা, এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় কসমেটিকস ও পারসোনাল কেয়ার শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এবারের আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে হাল ফ্যাশন, আগামীর সময়, প্রতিদিনের বাংলাদেশ, বাংলা ভিশন, বাংলানিউজ২৪ ডটকম ও বাংলা টেলিগ্রাফ।

প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

জনপ্রিয়