বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৩০, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে ভাগ্য বদল, গ্রামে বসেই লাখপতি জনি

কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে ভাগ্য বদল, গ্রামে বসেই লাখপতি জনি
ছবিঃ প্রতিনিধি

প্রযুক্তির যুগে এখন আর উন্নত শহর কিংবা রাজধানীতে বসেই যে কন্টেন্ট তৈরি করে সফল হওয়া যায় তা নয়। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার একেবারে প্রত্যন্ত গ্রাম ধুপখালীর ছেলে আল আমিন হাসান জনি তার প্রমাণ। গ্রামের মাটির ঘরে বসে, হাতে থাকা একটি স্মার্টফোনকে পুঁজি করে তিনি এখন মাসে লক্ষ টাকা আয় করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ইতিমধ্যে তিনি এলাকা ছাড়িয়ে জেলার বাইরেও পরিচিতি পেয়েছেন।

২০১৬ সালের শেষ দিকে এবং ২০১৯ সালে করোনার সময় হাতে থাকা অফুরন্ত সময়কে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই ভিডিও বানানো শুরু করেন জনি। প্রথমে নিজের গ্রামের দৈনন্দিন জীবন, মাঠের কাজ, পুকুরে মাছ ধরা, গ্রামীণ রান্না এবং মজার মজার স্কিট দিয়ে টিকটক ও ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করতেন। শুরুতে খুব একটা সাড়া না পেলেও ধৈর্য ধরে নিয়মিত কন্টেন্ট আপলোড করতে থাকেন তিনি।

ধীরে ধীরে তার "গ্রামীণ লাইফস্টাইল" ও "কমেডি স্কিট" ভিত্তিক ভিডিওগুলো ভাইরাল হতে শুরু করে। বিশেষ করে মায়ের হাতের রান্না, নানী-দাদীর গল্প এবং গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের নিয়ে বানানো ভিডিও দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।

বর্তমানে জনির ৪টি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে যেগুলোতে লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। এছাড়াও টিকটকে তার ফলোয়ার সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে।

ফেসবুক ও ইউটিউবের অ্যাড রেভিনিউ, ব্র্যান্ড প্রমোশন, স্পন্সরশিপ এবং লাইভ গিফটের মাধ্যমে তিনি প্রতি মাসে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন বলে জানিয়েছেন। এত বড় অংকের আয় এখন তিনি গ্রামে বসেই করছেন, যা এলাকার মানুষের কাছে বিস্ময়ের বিষয়।

জনি বলেন, "আমি চাইলে শহরে গিয়ে স্টুডিও ভাড়া করে কাজ করতে পারতাম। কিন্তু আমি চেয়েছি আমার গ্রামের সৌন্দর্য, মানুষের জীবনযাত্রা সবার সামনে তুলে ধরতে। মানুষ এখন গ্রামের সহজ জীবন দেখতে পছন্দ করে।"
 
জনির সাফল্যে এখন ধুপখালীসহ আশপাশের গ্রামের অনেক বেকার তরুণ কন্টেন্ট তৈরির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কেউ রান্নার ভিডিও বানাচ্ছে, কেউবা কৃষি নিয়ে কাজ করছে। জনি নিজেও নতুনদের বিনামূল্যে ভিডিও এডিটিং ও কন্টেন্ট তৈরির প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেন, "জনি আমাদের গ্রামের গর্ব। ও দেখিয়ে দিয়েছে ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে গ্রামে বসেও ডিজিটাল দুনিয়ায় রাজত্ব করা যায়।"

আল আমিন হাসান জনির স্বপ্ন গ্রামে একটি ছোট কন্টেন্ট ক্রিয়েশন সেন্টার তৈরি করা। যেখানে গ্রামের তরুণ-তরুণীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেরা আয় করতে পারবে। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে গ্রাম থেকেও দেশ-বিদেশে পরিচিতি পাওয়া সম্ভব।

প্রতিকূলতা আর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে ধুপখালীর জনির এই উত্থান নতুন প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয়