মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৩৫, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

“ডিজেলেই দৈনিক ১০৯ কোটি টাকা লোকসান গুনছে সরকার”

“ডিজেলেই দৈনিক ১০৯ কোটি টাকা লোকসান গুনছে সরকার”
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ডিজেলে বর্তমানে প্রতি লিটারে সরকারের প্রায় ৮৯ টাকা করে লোকসান হচ্ছে, যার ফলে প্রতিদিন কেবল ডিজেল খাতেই প্রায় ১০৯ কোটি টাকা সরকার লোকসান দিচ্ছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র ডিজেলে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা সরকারের লোকসান হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় জানাতে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে উপদেষ্টা জানান, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান মেনে নিয়ে দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু এ ধারাবাহিক লোকসান হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে জ্বালানি তেল পাচারের বড় ঝুঁকি এড়াতে সরকারকে জ্বালানি তেলের মূল্য পুননির্ধারণ বা সমন্বয় করতে হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিনের মূল্য ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পার্শ্ববর্তী ও এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানি তেলের দামের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে তথ্য উপদেষ্টা জানান, ভারতের কলকাতায় বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১৩৪.৭৬ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪.৮৩ টাকা, নেপালে ১৬১.২৪ টাকা, শ্রীলংকায় ১৭৯.৪২ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১.২২ টাকা এবং পাকিস্তানে ১৮৫.৪৮ টাকা।

বাংলাদেশে দর সবচেয়ে কম থাকায় প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা তেল সীমান্তে পাচারের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে লিটারে ২০ টাকা সমন্বয় করায় বছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে।

জ্বালানিখাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের উদ্যোগ তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমদানি নির্ভরতা কমাতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপ উদ্বোধনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরও ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে করে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পাবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বিজিএফসিএলের অধীন এলাকাগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে সাধারণ মানুষের ওপর সৃষ্ট চাপ কমাতে সরকার একাধিক বিকল্প সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার করছে বলে জানান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, আগামী অক্টোবর মাস থেকে দেশব্যাপী প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে ভাতা সরাসরি জিটুপি পদ্ধতিতে উপকারভোগীর বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে ১.৬১ কোটি পরিবারকে এই সার্বজনীন সুরক্ষা বলয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজিতে ৩০ কেজি করে চাল এবং ৩০০টি উপজেলায় ভিটামিনসমৃদ্ধ ‘পুষ্টিচাল’ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের বরাতে উপদেষ্টা জানান, আগস্ট মাসে সারা দেশে পরিচালিত ল্যাবের মাধ্যমে ২ হাজার ৯৪২টি খাবারের নমুনা পরীক্ষা করে ৮১১টিতে অতিরিক্ত ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতির তথ্য জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া গত বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা ২০২৩ সালে ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকার বেশি।

এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীকে (ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইত ও বৌদ্ধ ভিক্ষু) সম্মানির আওতায় আনা হচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়