রোববার ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০৬, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস

আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস
ছবি: সংগৃহীত

আজ ১১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। কন্যাশিশুর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, লিঙ্গবৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দিবসটি পালন করা হয়।

জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হয়। কন্যাশিশুরা যেসব সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়, সেগুলো চিহ্নিত করা এবং তাদের ক্ষমতায়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বিশ্ববাসীকে উৎসাহিত করাই দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য।

বিশ্বে প্রায় ১১০ কোটি কন্যাশিশু রয়েছে, যাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনা সমাজের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু দারিদ্র্য, শিক্ষার সীমিত সুযোগ, অপুষ্টি, বাল্যবিবাহ ও লিঙ্গবৈষম্যের কারণে অনেক মেয়েই নিজেদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সহিংসতাও তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে।

যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটের পরিস্থিতিতে কন্যাশিশুদের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এসব পরিস্থিতিতে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে সংকটকালীন সময়ে কন্যাশিশুদের বিশেষ সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়ে।

দিবসটির মাধ্যমে প্রতিটি কন্যাশিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা, পর্যাপ্ত পুষ্টি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ বন্ধ, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং পরিবার ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা শুধু একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয় নয়। এ জন্য পরিবারে সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা এবং সামাজিকভাবে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রতিটি মেয়ের শিক্ষা গ্রহণ, নিজের মত প্রকাশ, নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তারা নিজেদের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে। এর মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে সমতাভিত্তিক, মানবিক ও উন্নত সমাজ।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়