নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপসেরা ব্রাজিল
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে যেন বিধ্বংসী এক সেলেসাও দলকে দেখল ফুটবল বিশ্ব। আটলান্টায় শুরু থেকেই স্কটিশ রক্ষণভাগকে নাস্তানাবুদ করে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোল এবং মাতেউস কুনহার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা মাঠ ছেড়েছে পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। স্কটিশ ডিফেন্ডার স্কট ম্যাকেনাকে চাপে ফেলে বল কেড়ে নেন রায়ান, সেখান থেকে সুযোগসন্ধানী ভিনিসিয়ুস গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে পরাস্ত করে দলকে লিড এনে দেন। ২৫ মিনিটে আবারও বল জালে জড়িয়েছিলেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা, তবে ভিএআর প্রযুক্তির কল্যাণে সেটি বাতিল হয় ফাউলের দায়ে। অবশ্য সেই আক্ষেপ ভিনি মেটান প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে। ব্রুনো গিমারাইসের মাপা ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি, যা এবারের বিশ্বকাপে তার চতুর্থ গোল।
বিরতির পর ফিরে এসেও আক্রমণের ধার কমায়নি ব্রাজিল। ৬০ মিনিটে মাতেউস কুনহা স্কোরলাইন ৩-০ করে ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন। আবারও প্লে-মেকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া ব্রুনো গিমারাইসের পাস থেকে ডান পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন কুনহা। মাঝপথে ৫৫ মিনিটে স্কটল্যান্ড পেনাল্টির আবেদন জানালেও রেফারির তা নাকচ করে দিলে হতাশা বাড়ে স্কটিশ শিবিরে।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৫ মিনিটে মাতেউস কুনহার বদলি হিসেবে যখন মাঠে নামেন নেইমার জুনিয়র, তখন আটলান্টা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছিল দর্শকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। দীর্ঘ ৯৮১ দিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে মাঠে ফিরলেন নেইমার।
ইনজুরির কারণে প্রায় আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই তারকা খেলোয়াড়কে আবারও দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে সেলেসাও সমর্থকরা। যদিও তেমন কিছুই করতে পারেননি। শেষ দিকে স্কটল্যান্ড আক্রমণে ধাড় বাড়িয়েছিল। যদিও লাভ হয়নি তাতে। যোগ হওয়া সময়ের শেষ দিকে তাদের হতাশ করেছেন আলিসন।
ম্যাচটিতে ব্রাজিলের জয়ের নায়ক অবশ্য ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করে তিনি যুক্ত হয়েছেন জার্জিনিও, রোমারিও, রোনালদো নাজারিও এবং রিভালদোর মতো কিংবদন্তিদের এলিট তালিকায়। কাকতালীয়ভাবে, সেই সব বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করা ভিনিসিয়ুসের এই বিধ্বংসী ফর্ম সমর্থকদের মনে ট্রফি জয়ের স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছে। যদিও গোল না পেলেও পুরো ম্যাচে গোলরক্ষক আলিসনের দুর্দান্ত সব সেভ ব্রাজিলকে ক্লিনশিট বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
গ্রুপ পর্ব শেষে ব্রাজিল ও মরক্কো উভয়ের সংগ্রহই সমান ৭ পয়েন্ট। তবে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই পা রাখছে রাউন্ড অব ৩২-এ। হাইতি বিদায় নিলেও টুর্নামেন্টে তারা নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সই উপহার দিয়ে গেছে। এখন ফুটবল বিশ্বের নজর পরবর্তী নকআউট পর্বের দিকে, যেখানে সেলেসাওরা তাদের শিরোপা জয়ের মিশনে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরছে।



























